‘এখনও এক মাসও হয়নি…’, তৃণমূল দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় দাবি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই রাজ্যে হাওয়া বদলেছে। আমজনতার পাশাপাশি পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন একাধিক কর্মী থেকে শুরু করে প্রাক্তন নেতারা। যার জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) ভবিষ্যৎ কি হবে সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলে মুখ্য আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মাঝে বড়সড় মন্তব্য শোনা গেল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর থেকে।
তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী
সম্প্রতি এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ভালো বলতে পারবেন যে তাঁর দলের অবস্থা কি! এখনও এক মাসও হয়নি। এর মধ্যেই তৃণমূল দল প্রায় উঠবো উঠবো করছে। তৃণমূল দলের জনপ্রতিনিধি তারা মনে করছেন যে মমতার সাথে থাকলে তাদের সমূহ বিপদ। তাই মানে মানে তৃণমূল দল ছেড়ে পালাও। দল ছাড়ার হিড়িক সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই শুরু হয়ে গিয়েছে’।
তিনি আরও জানান, এমএলএরা মনে করছেন তাঁদের আর এই দল করে লাভ নেই। ফলে আগামী দিনে, তৃণমূল ৮০টা এমএলএ পেলেও বিরোধী দলের সন্মান পাবে কি না আমার জানা নাই। কারণ আরও কত এমএলএ পালাবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তাঁর মতে, তৃণমূল যাতে বিরোধী হিসাবে না উঠে দাঁড়াতে পারে সেই জন্যই এই MLA-রা তৃণমূলকে সমর্থন করছে না।
তবে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্যের পর বন্দে মাতরম গান সম্পর্কেও মুখ খুলেছেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ। অধীরবাবুর মতে, এই বন্দে মাতরম জোর করে গাওয়ানোর প্রক্রিয়াটা ঠিক নয়। আমাদের দেশ ভিন্ন ধর্ম, রুচি ও সংস্কৃতির দেশ, সেগুলি মাথায় রেখেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধীরা বন্দে মাত্রমের প্রথম দুটি অংশ তারা নিয়েছিলেন। কারণ আমাদের সংবিধান বলে ভারতে সকলের নিজের নিজের ধর্ম সংস্কৃতি পালনের অধিকার আছে। সেগুলো রীতিগুলোকে জোরপূর্বক ভেঙে দিয়ে কোন মহান কর্ম সম্পাদন হবে আমার জানা নেই। তবে একটা বড় অংশের মানুষ মনে করবেন তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই জোর করে বন্দে মাতরম স্কুলে, কলেজে ও মাদ্রাসায় গাওয়ানোটা সরকারের পুনঃ র্বিবেচনা করা উচিত।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের প্রবীণ সংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ও জানান সংগঠনের ভেতরেই কর্মী ও দীর্ঘদিনের নেতাদের মতামতের কোনো দাম থাকছে না। গুটিকয়েক ব্যক্তি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন ফলে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নেতৃত্ব অবধি পৌঁছাচ্ছে না। দলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে যে অসন্তোষ ছিল তা আর চাপা থাকছে না। তিনি আরও জানান, ‘আমি যা দেখছি তা অত্যন্ত ভয়াবহ। এই দলের আয়ু মাত্র কয়েকদিন। সবটাই তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়তে চলেছে’।




