কল্যাণ-অরূপ-শোভনদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত লালবাজারের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে সরকার বদলের পর প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয়েছে ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমানো হয়েছিল। তারই মধ্যে এবার আরও ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বাড়ি থেকে হাউস গার্ড সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল লালবাজার (Lalbazar)। এই তালিকায় রয়েছেন শাসকদলের নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক এবং নিরাপত্তা দফতরের উচ্চপদস্থ কর্তারা। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
লালবাজারে (Lalbazar) নির্দেশে সরছে নিরাপত্তা
লালবাজারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে আর আগের মতো নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকবে না। একই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমার, আইনজীবী সঞ্জয় বসু, নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর, তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, প্রাক্তন ডিজিপি মনোজ মালব্য এবং বর্তমান ডিরেক্টর অব সিকিউরিটি পীযূষ পাণ্ডের ক্ষেত্রেও। মোট ১০ জনের বাড়ি থেকে নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ জারি হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বর্তমান পদমর্যাদা অনুযায়ী নতুন করে নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সাংসদ হওয়ায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজীব কুমার নির্দিষ্ট ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পাবেনই। ফলে আলাদা করে হাউস গার্ড রাখার প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই মনে করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, একসময় রাজীব কুমারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল এবং তাঁর সমর্থনে ধরনায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই রাজীব কুমারের বাড়ির নিরাপত্তাও এবার প্রত্যাহার করা হল।
অন্যদিকে, পীযূষ পাণ্ডে অতীতে ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি থাকাকালীন যে নিরাপত্তা সুবিধা পেতেন, বর্তমানে দায়িত্ব বদলের ফলে সেই সুবিধার আর ধারাবাহিকতা থাকছে না। একইভাবে, মন্ত্রীত্ব চলে যাওয়ার পর অরূপ বিশ্বাসের Y ক্যাটেগরির নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। কুণাল ঘোষ আগে আদালতের নির্দেশে বিশেষ নিরাপত্তা পেতেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি বিধায়ক হওয়ায় সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী নতুন নিরাপত্তা পাবেন। তাই আগের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আর আলাদা গুরুত্ব থাকছে না।

আরও পড়ুন : ফের খুলল RG Kar ফাইল, টুইটারে অরিজিতের ইঙ্গিতবহ পোস্টে চাঞ্চল্য
প্রশাসনের একাংশের মতে, আগের সরকারের সময় যাঁদের বাড়িতে নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রেই এখন সেই নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রয়োজন নেই। সেই কারণেই পর্যালোচনার পর ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নবান্নে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ভিআইপি নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের পর থেকেই বিভিন্ন ব্যক্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা শুরু হয়।



