কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে পাইথন! টলিউড নিয়ে বড় অভিযোগ রুদ্রনীল ঘোষের

টলিউডে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, সহকর্মীরা যদি তাঁর পাশে দাঁড়াতেন, তাহলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ রূপ নিত না। তাঁর অভিযোগ, টলিউডের একাংশে এমন একটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিল্পের পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলেছিল।
রুদ্রনীল সরাসরি নাম উল্লেখ করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাবেই অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের মতো ব্যক্তিরা টলিউডে (Tollywood) এতটা প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন। তাঁর দাবি, এই দুই ভাইয়ের আচরণ ও কাজকর্মের কারণে ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি তিনি অভিযোগ করেন, টলিউডকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, অথচ সব জানার পরেও তাদের সরানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বাস্তবে যা ঘটেছে, তা অনেক বড়। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ নয়, পাইথন বেরোনোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, টলিউডে দুর্নীতির গভীরতা অনেক বেশি এবং তা সামনে এলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেতে পারে।
আরও পড়ুন: ৫ টাকার মাছভাতে কেমন স্বাদ? ‘মা আহার’-এ রূপার নজরদারি
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রুদ্রনীল জানান, গত পাঁচ বছরে তিনি মাত্র ৭২ দিন কাজের সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর কথায়, “যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কাজ পাইনি। আমাকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়েছিল।” এমনকি তিনি দাবি করেন, যেসব বাড়িতে আগে তিনি নিমন্ত্রিত হতেন, সেসব জায়গা থেকেও তাঁকে এড়িয়ে চলা শুরু হয়। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁকে নিয়ে কটূক্তিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, টলিউডের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্বচ্ছতা, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের বাস্তব চিত্র নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র করেছে।
আরও পড়ুন: ‘আমাদের ঘরে নারী-পুরুষে কোনও ভেদ নেই’, ৭৭ হাজার কোটির সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী রাম চরণের স্ত্রী উপাসনা



