0%

গুরু দত্তের জীবনসঙ্গী, ভারতীয় সঙ্গীতের চিরসবুজ কণ্ঠ গীতা দত্তের অজানা অধ্যায়

গীতা দত্ত ভারতীয় সঙ্গীতজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি মূলত ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে হিন্দি চলচ্চিত্রে নেপথ্য গায়িকা এবং বাংলা আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরিচালক ও অভিনেতা গুরু দত্তকে বিয়ের আগে তাঁর নাম ছিল গীতা ঘোষ রায়চৌধুরী। সঙ্গীতজগতে তিনি প্রথমে ‘গীতা রায়’ নামেই পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে বিয়ের পর তিনি ‘গীতা দত্ত’ (Geeta Dutt) নামে সারা দেশে খ্যাতি অর্জন করেন।

শৈশব থেকেই গীতার সঙ্গীত প্রতিভা সকলকে মুগ্ধ করেছিল। মাত্র ১২ বছর বয়সে তাঁর গান শুনে বিখ্যাত সুরকার হনুমান প্রসাদ অভিভূত হন। তাঁরই উদ্যোগে ১৯৪৬ সালে ‘ভক্ত প্রহলাদ’ চলচ্চিত্রে গীতা প্রথমবারের মতো গান গাওয়ার সুযোগ পান। যদিও সেই ছবিতে তিনি কোরাসে মাত্র দুটি লাইন গেয়েছিলেন, তবুও তাঁর কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য ও সম্ভাবনা সবার নজর কেড়ে নেয়।

এরপর ১৯৪৭ সালে ‘দো ভাই’ চলচ্চিত্রে নেপথ্য গায়িকা হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান গীতা। এই ছবির গান তাঁকে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি মূলত ভজন এবং আবেগঘন দুঃখের গান গেয়ে শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেছিলেন। তবে ১৯৫১ সালে শচীন দেব বর্মণের সুরে ‘বাজি’ চলচ্চিত্রের গান তাঁর সঙ্গীতজীবনে এক নতুন মোড় এনে দেয়। সেই ছবিতে আধুনিক ও পাশ্চাত্য ঘরানার গানে তাঁর অনবদ্য পরিবেশনা তাঁকে বহুমাত্রিক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

১৯৫০-এর দশকে গীতা দত্ত এবং লতা মঙ্গেশকর ছিলেন হিন্দি চলচ্চিত্রের দুই প্রধান নেপথ্য গায়িকা। নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠ, আবেগপূর্ণ পরিবেশনা এবং গায়কির অভিনব ভঙ্গির মাধ্যমে গীতা সমসাময়িক অন্য সব শিল্পীর থেকে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। হিন্দি গানের পাশাপাশি তিনি গুজরাটি চলচ্চিত্রেও অন্যতম জনপ্রিয় নেপথ্য গায়িকা ছিলেন।

আরও পড়ুন: জলমগ্ন জুহু, অমিতাভ-অজয়ের বাংলোর সামনে হাঁটুসমান জল! ভাইরাল ভিডিও

১৯৬০-এর দশকের শুরুতে তিনি একের পর এক জনপ্রিয় বাংলা আধুনিক গান উপহার দেন। সেই সময় বাংলা চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের স্বর্ণযুগ চলছিল, আর গীতা দত্ত ছিলেন সেই যুগের অন্যতম প্রধান কণ্ঠশিল্পী। তাঁর কণ্ঠে প্রেম, বিরহ, আনন্দ কিংবা বেদনা সব ধরনের অনুভূতি জীবন্ত হয়ে উঠত।

ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে গীতা দত্ত শুধু একজন জনপ্রিয় নেপথ্য গায়িকাই নন, বরং আবেগ, সুর ও অভিব্যক্তির অনন্য সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক কালজয়ী শিল্পী। তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান আজও সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে সমানভাবে জনপ্রিয় এবং নতুন প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘শুধু আশীর্বাদ চাই’, বিয়ের আগে আবেগঘন বার্তা আমির খানের

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker