‘চিরকাল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে’, সোমনাথ মন্দির নিয়ে কলম ধরলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী, লিখলেন অজানা ইতিহাস

সবদিক নিউজ:প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আধ্যাত্মিক জীবনের সঙ্গে সোমনাথ মন্দিরে (Somnath Temple)-এর যোগ বহুদিনের। দেশের বিভিন্ন জ্যোতির্লিঙ্গ ও তীর্থস্থান সফর করলেও সোমনাথ মন্দির তাঁর হৃদয়ের বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। আগামী ১১ মে ফের সোমনাথ দর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। তার আগে এক দীর্ঘ বার্তায় সোমনাথের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ভারতীয় সভ্যতার সঙ্গে এই মন্দিরের আত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। একইসঙ্গে পুনর্নির্মিত সোমনাথ মন্দিরের উদ্বোধনের ৭৫ বছর পূর্তিকেও ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন মোদী।
সোমনাথ মন্দির (Somnath Temple) নিয়ে কলম ধরলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী:
নিজের লেখায় প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের শুরুতেই তিনি ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’-এ যোগ দিয়েছিলেন, যা সোমনাথ মন্দিরে প্রথম আক্রমণের এক হাজার বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল। এবার পুনর্নির্মিত মন্দিরের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আবারও সেখানে যাচ্ছেন তিনি। মোদীর কথায়, ধ্বংস থেকে পুনর্জন্মের যে ইতিহাস সোমনাথ বহন করে, তা ভারতীয় সভ্যতার অদম্য শক্তির প্রতীক। তাঁর মতে, সমুদ্রতটে দাঁড়িয়ে থাকা সোমনাথ যেন যুগে যুগে ভারতকে শিখিয়েছে—যত আঘাতই আসুক, আত্মবিশ্বাস ও সংস্কৃতির শক্তিতে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।
মার্কিন আদালতে মোক্ষম ঝটকা পেলেন ট্রাম্প! ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় প্রাচীন শাস্ত্রের উদ্ধৃতি টেনে বলেন, প্রভাসক্ষেত্র প্রদক্ষিণ করা মানে সমগ্র পৃথিবী প্রদক্ষিণ করার সমান পুণ্য লাভ। যুগের পর যুগ ধরে সোমনাথ শুধুমাত্র একটি মন্দির নয়, বরং ভারতীয় চেতনা ও ঐতিহ্যের ধারক হয়ে থেকেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রাজা ভোজ, সিদ্ধরাজ জয়সিংহ, কুমারপাল সোলাঙ্কি, অহল্যাবাই হোলকর থেকে শুরু করে বহু ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের অবদানের কথাও স্মরণ করেন মোদী। বিদেশি আক্রমণের বিরুদ্ধে যাঁরা লড়াই করেছিলেন এবং মন্দির পুনর্গঠনে ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
বার্তায় উঠে আসে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের কথাও। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল কীভাবে ভগ্নপ্রায় সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই ইতিহাস তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪৭ সালের দীপাবলিতে সর্দার প্যাটেলের সেই ঐতিহাসিক আহ্বানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মোদী বলেন, গোটা দেশ তখন সোমনাথ পুনর্গঠনের কাজে এগিয়ে এসেছিল। যদিও মন্দিরের পুনর্নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই প্যাটেলের মৃত্যু হয়, পরে রাজেন্দ্র প্রসাদের উপস্থিতিতে ১৯৫১ সালে উদ্বোধন হয় নতুন সোমনাথ মন্দিরের।
মোদী আরও জানান, গত এক দশকে ‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’ নীতিকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের উন্নয়ন করা হয়েছে। কাশি বিশ্বনাথ, কেদারনাথ মন্দির, কামাখ্যা মন্দির, অযোধ্যা রাম মন্দির সহ একাধিক তীর্থক্ষেত্রে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণেও জোর দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে এবং ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর ভাবনাও আরও মজবুত হচ্ছে বলে মত প্রধানমন্ত্রীর।
যে সরকারি ব্যাঙ্কে করতেন সুইপারের কাজ, আজ তিনি সেখানকার AGM! অবাক করবে প্রতীক্ষার কাহিনি
শেষে দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ আবেদন জানান মোদী। তিনি বলেন, এই বিশেষ সময়ে অন্তত একবার সোমনাথ দর্শনে যাওয়া উচিত প্রত্যেক ভারতীয়র। তাঁর কথায়, সোমনাথ (Somnath Temple) শুধু ভক্তির কেন্দ্র নয়, বরং এমন এক সভ্যতার প্রতীক যা শত আঘাতের পরও কখনও মাথা নত করেনি। আগামী এক হাজার দিন ধরে সোমনাথে বিশেষ পূজার আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ভারতের ঐক্য, আত্মসম্মান এবং সাংস্কৃতিক শক্তির চিরন্তন প্রতীক হিসেবেই ভবিষ্যতেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে সোমনাথ।



