‘দাঁতে দাঁত চেপে সদ্যোজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে…’,পরমব্রতের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে শোরগোল টলিপাড়ায়

টলিপাড়ায় স্বরূপ-অরূপ রাজত্বের চোখরাঙানির দিন অতীত! তৃণমূল জমানার ব্যান্ড কালচারের শিকার অভিনেতারাই পাশার পাল্টা চালে এখন শুধু টলিউডের অন্দরমহলে প্রবেশাধিকারই পাননি,বরং রাজার আসনে এখন তারাই। তৃণমূল আমলে শাসক ঘনিষ্ঠরা এখন বেশ চাপের মুখে! কেউ রাতারাতি অন্যসুরে কথা বলছেন, কেউ সরাসরি দল বদলের কথা বলছেন। এবার সেই আসরে মুখ খুললেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। প্রায় কাঁদো কাঁদো মুখে পরম যা বললেন ,‘দাঁতে দাঁত চেপে আমি ক্ষমা চেয়েছি ছেলের মুখে দিকে তাকিয়ে…’
আরও পড়ুন:Entertainment Latest Highlights: মেয়ে হওয়ার পর যেভাবে বদলালেন রণদীপ
বিধানসভা নির্বাচনে জেতা বিধায়ক রুদ্রনীল অর্থাৎ রুডি টলিপাড়ায় পা দিয়েই পালাবদলের ডাক দিয়েছেন। টেকশিয়ান,প্রযোজক,পরিচালকদের ভেতরে দ্বন্দ্ব মিটিয়ে কাজের স্বার্থে একসুরে বাঁধার কথা বলছেন। এমনই টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বৈঠকে ‘সবে মিলে করি কাজ’এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেন রুদ্র। কিন্তু তারপরই বন্ধু রুদ্রকে পাশে রেখেই পরমব্রত বললেন, এতদিনের অরাজকতা তিনি কেবল সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে মেনে নিচ্ছিলেন। একসময় টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় ঝামেলা চরমে উঠেছিল। দিনের পর দিন কাজ বন্ধ ছিল। সেসময় পরমব্রত আদালতেও গিয়েছিলেন, তাতেই নাকি তিনি রোষের মুখে পড়েন। পরম-পিয়ার বিবাহের পর সন্তানের মুখ চেয়েই তাকে ক্ষমা চাইতে হয় এবং কাজ করার ছাড়পত্র পেতেই ক্ষমতাশালীদের কাছে মাথা নত করতে হয় বলেই তিনি জানান। এদিন তিনি আরও বলেন,’২০১১ এর আগে আমরা খুব আনন্দে কাজ করতাম,তা আমিও স্বীকার করি। এই পরিবেশ আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। এখানে কেউ জয় বাংলা বলবেন,কেউ জয় শ্রীরাম বলবেন, কেউ বন্দে মাতরম বলবেন,কেউ লাল সেলাম বলবেন। কিন্তু সিনেমার কাজের সময় সেটা গুরুত্ব পাবে না’।
আরও পড়ুন:Entertainment Latest Highlights: নন্দনে আবেগঘন মুহূর্ত, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মরণে নীরবতা পালন
পরমব্রতর মন্তব্যের পরই সোশ্য়াল মিডিয়ায় ঝড়। পরমব্রতকে ভোটের আগে দেখা গিয়েছিল তৎকালীন শাসকদলের হয়ে সোচ্চার হতে। সেসময় বাংলায় বাংলা বিরোধীদের স্থান নেই-এই মন্তব্যের সমর্থনে বিজেপি বিরোধীতা করতে দেখা যায় তাঁকে। শেষের কিছুদিনে সরাসরি তৃণমূলের প্রচারেও ছিলেন তিনি। এমনকি টেকনিশায়ন স্টুডিওর সমস্যা থেকে পরম প্রিয় বন্ধুদের ব্যান্ড হওয়া নিয়েও বিশেষ প্রতিবাদ করতেও দেখা যায়নি। ফলে তার আজকের মন্তব্যে যে সমালোচনার মুখে পড়তেই হবে তা বলাই যায়। তিনি নিষিদ্ধ তালিকায় পরেছিলেন ঠিকই তবে বেশিদিন তাকে বঞ্চিত হতে হয়নি। প্রাক্তন মন্ত্রীদের বদান্য়তায় ফেডারেশনের সুরে সুর মেলাতেই যে তার ক্ষেত্রে কাজের ছাড়পত্র মিলেছিল সেই কথাতেই শিলমোহর দিলেন তিনি।
আরও পড়ুন:‘Melody’ moment: ‘মেলোডি’ উইথ ‘মেলোনি’! মোদীর হাত ধরে ফিরল আশির দশকের চকোলেটি ম্যাজিক!
এদিন বৈঠকে সবার অভিযোগ শোনেন রুদ্রনীলের টিম। তিনি জানান, রাজনৈতিক পরিচয় আলাদা হলেও প্রথম পরিচয় যেন টলিউডের মানুষ হিসেবে থাকে। কোনমতে শুটিং বন্ধ যেন না থাকে, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা মেটাতে হবে। আগামী মাসে নির্দিষ্ট নিয়মে ভোট হবে তারওপর নির্ধারিত হবে টলিউডের অন্দরের ভাগ্য
আরও পড়ুন:Parambrata Chattopadhyay: ‘তোমার সঙ্গে গল্প করা হয়নি আজ কতগুলো বছর’, মাতৃ দিবসে পরমব্রতের হৃদয়ছোঁয়া বার্তা



