0%

পাকিস্তানে নিকেশ হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ! অজ্ঞাত বন্দুকধারীর হামলায় খতম লস্কর কমান্ডার আফ্রিদি

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হল লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) এক প্রভাবশালী কমান্ডার ইউসুফ আফ্রিদি। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক টার্গেটেড হামলার ঘটনায় পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আফ্রিদিকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালানো হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পাকিস্তানে খতম লস্কর (Lashkar-e-Taiba) কমান্ডার ইউসুফ আফ্রিদি:

নিহত আফ্রিদি লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিল। জঙ্গি সংগঠনে নতুন সদস্য নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং তাদের সক্রিয়ভাবে সংগঠিত করার কাজে তার বড় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত জঙ্গি নেতা হাফিজ সঈদের  ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই সে বেশি পরিচিত ছিল। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাঈদের নাম আন্তর্জাতিক মহলে বহুবার উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দফার আগে ‘মেগা অ্যাকশন’! একদিনেই ১০৯৫ গ্রেপ্তার করে বড় বার্তা পুলিশের

ঘটনার পর দ্রুত এলাকায় পৌঁছে যায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। পুরো অঞ্চল ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত এই হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। পাকিস্তানি প্রশাসন ঘটনাটিকে “সংবেদনশীল” বলে উল্লেখ করেছে এবং এর পেছনে সম্ভাব্য বিভিন্ন কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যার মধ্যে জঙ্গি গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির ভূমিকা থাকতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিদির মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার সংগঠন কাঠামোয় বড় ধাক্কা দিতে পারে। সে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা সংস্থার নজরদারিতে ছিল এবং জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে তার সরাসরি যোগ ছিল বলে দাবি। খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালোচিস্তান অঞ্চলে এ ধরনের টার্গেটেড কিলিংয়ের ঘটনা নতুন নয়, বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অস্থিরতারই অংশ।

অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত লস্কর-ই-তৈবার প্রভাবশালী কমান্ডার ইউসুফ আফ্রিদি

আরও পড়ুন: সংখ্যায় কম হয়েও পুরুষদের থেকে ভোটদানে এগিয়ে মহিলারা, কোন কেন্দ্রে কত ভোট পড়ল প্রথম দফায়?

এই ঘটনার জেরে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে এখনও জঙ্গি কার্যকলাপ সক্রিয় রয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তান সরকার এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তদন্ত জোরদার করেছে। ঘটনাটি ভবিষ্যতে জঙ্গি (Lashkar-e-Taiba) সংগঠনগুলির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker