পাকিস্তানে শোয়েব আখতারের ভাইয়ের শেষকৃত্যে হাজির লস্করের ডেপুটি চিফ! ছবি সামনে আসতেই শুরু হইচই

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার শোয়েব আখতারকে (Shoaib Akhtar) ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে যে, সম্প্রতি তাঁর বড় ভাই শাহিদ আখতার প্রয়াত হন। আর তাঁর ভাইয়ের শেষকৃত্য নিয়েও দানা বাঁধছে বিতর্কের। তাঁর ভাইয়ের জানাজায় লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতির দাবি সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত তাঁর ভাইয়ের শেষকৃত্যের কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, শোকাহত শোয়েব আখতারকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশ এবং বিভিন্ন সূত্রে লস্কর-ই-তৈবার ডেপুটি চিফ সইফুল্লাহ কাশুরি বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পাক সরকার বা প্রাক্তন পেসার শোহেব আখতারের তরফ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও দেওয়া হয়নি।
পাকিস্তানে শোয়েব আখতারের (Shoaib Akhtar) ভাইয়ের শেষকৃত্যে লস্করের ডেপুটি চিফের উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক!
জানা যাচ্ছে, শোয়েব আখতারের (Shoaib Akhtar) বড় ভাই শাহিদ আখতার গত ২৪ জুন মারা যান। তাঁর শেষ বারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে বহু আত্মীয়-স্বজন, পরিচিত ব্যক্তি এবং স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির উপস্থিতির অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরেও নজর কেড়েছে। ভাইয়ের মৃত্যুর পর শোয়েব আখতার প্রকাশ্যে শোক প্রকাশ করলেও, শেষকৃত্যে কারা উপস্থিত ছিলেন বা তাঁদের পরিচয় নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে বা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে এই নীরবতাকেই ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: এসি ঘর, রয়েছে কন্ডোমের প্যাকেটও! বিধাননগর পুরসভার ওয়ার্ড অফিস দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন ‘দেখাও পাপ’
এই বিতর্কের সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি হল, ভাইরাল ভিডিওতে যাদের দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে একজনের নাম সইফুল্লাহ কাশুরি। সইফুল্লার নাম এর আগেও একাধিক সন্ত্রাসবাদী ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে বলে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি। ২০২৫ সালের পহেলগাম হামলার তদন্তে তাঁর নাম উঠে এসেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হামলায় জম্মু-কাশ্মীরে ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়াও ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই হামলার তদন্তেও লস্কর-ই-তৈবার বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। যদিও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই ধরনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, শেষকৃত্যে পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ (PMML)-এর সভাপতি ইনাম উর রহমানের উপস্থিতির দাবিও সামনে এসেছে। এই রাজনৈতিক সংগঠনকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে লস্কর-ই-তৈবার সহযোগী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ জামাত-উদ-দাওয়া এবং মিল্লি মুসলিম লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর হাফিজ সঈদের উদ্যোগেই পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ গঠিত হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রভাব এবং তাদের সঙ্গে জনজীবনের কিছু পরিচিত মুখের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কোনও শেষকৃত্যে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় সবসময় পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আবার অন্য একটি অংশের মত, সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে দেখা যাওয়াও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নানা ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয়। ফলে এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি পারিবারিক শোকসভাকে ঘিরে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা কূটনৈতিক এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ভোটের পর থেকেই কলেজে অনুপস্থিত! দাগি তৃণমূলী শিক্ষক-কর্মীদের বিরুদ্ধে এবার ব্যবস্থা? উঠল দাবি
অন্যদিকে ভারতেও বিভিন্ন মহলে এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে পহেলগাম হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক যখন এখন আরও সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে, তখন এই ধরনের ছবি ও ভিডিও নতুন করে উদ্বিগ্নের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শোয়েব আখতারের (Shoaib Akhtar) বিরুদ্ধে কোনও আইনগত অভিযোগ আনা হয়নি এবং তিনি নিজেও এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খোলেননি। ফলে এই ঘটনায় প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল, তা নিয়ে স্পষ্ট ছবি সামনে আসার অপেক্ষা রয়েছে। তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য এবং সরকারি অবস্থান প্রকাশ্যে এলে তবেই এই বিতর্কের প্রকৃত সত্য আরও পরিষ্কার হবে।




