বাংলা হান্ট ডেস্ক: ডিজিটাল যুগে সাইবার জালিয়াতি নতুন কিছু নয়। বহু মানুষ এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এই প্রতারণার শিকার তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জি।
কল্যাণ ব্যানার্জির কী হয়েছিল?
সম্প্রতি, কল্যাণ ব্যানার্জী অভিযোগ করেছেন যে দুর্বৃত্তরা তার দীর্ঘদিনের অব্যবহৃত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একাধিক জালিয়াতি করেছে। এর ফলে ৬৫ লাখ টাকা উধাও হয়ে গেছে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম অফিস। ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কল্যাণ ব্যানার্জি।
প্রতারণা কিভাবে ঘটল?
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে SBI-এর তাঁর হাইকোর্ট শাখার অ্যাকাউন্টটি ‘সুপ্ত’ হয়ে গেছে কারণ এটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয়নি। সেই অব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট থেকে দুষ্কৃতীরা কেওয়াইসি চুরি করে। তারপর তারা জাল কেওয়াইসি তৈরি করে অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় করে। প্রতারকরা একের পর এক লেনদেনের মাধ্যমে সক্রিয় অ্যাকাউন্ট থেকে 65 লাখ টাকা তুলে নেয়।
ঘটনাটি কীভাবে সামনে আসে?
ঘটনাটি প্রথমে প্রকাশ্যে আসে ব্যাঙ্কের তরফে। সন্ধ্যায় হাইকোর্ট শাখার ব্যবস্থাপক কল্যাণ ব্যানার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, তার অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তোলা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে অবগত কিনা জানতে চান। সেই সময় কল্যাণবাবু গোটা ঘটনার খবর পান। এরপর আর দেরি না করে লালবাজারে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম শাখা। অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি নথি কারা কীভাবে সংগ্রহ করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে, তদন্তকারীরা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন।
আরও পড়ুন:2002 সালের ভোটার তালিকায় তৃণমূল কাউন্সিলরের নাম নেই! অশোক রুদ্র স্যারের সাথে ফেটে পড়েন
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে প্রতারণার পরিমাণ বাড়ছে। ডিজিটাল গ্রেফতার, ভুয়া লিঙ্ক, কেওয়াইসি জালিয়াতিসহ নানা কৌশলে জাল বিছিয়ে দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। অনেক সময় গ্রাহকরা সম্পূর্ণ অজান্তেই ফাঁদে পড়েন। এবার সেই জালে ধরা পড়লেন আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি।