0%

বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের প্রসারে বাড়ছে অপরাধের আশঙ্কা

ঢাকা, ৩ অক্টোবর : বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার নিয়ে অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ‘ডেইলি সান’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তরুণ পুরুষ স্কুল পড়ুয়াদের একাংশ এআই ব্যবহার করে যৌনায়িত ছবি তৈরি করে মহিলা পড়ুয়াদের হয়রানি করছে।

প্রতিবেদনটির লেখক নুরজাহান খান-এর মতে, উন্নত দেশগুলিতেও শক্তিশালী আইনি কাঠামো, কঠোর প্রয়োগ ব্যবস্থা এবং তুলনামূলক বেশি সাক্ষরতার পরেও এআই-সম্পর্কিত অপরাধ মোকাবিলায় সমস্যা হচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের দুটি টেলিকম সংস্থা মাসে মাত্র ৭১ বাংলাদেশি টাকা থেকে একাধিক এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিষেবা চালু করেছে। এর মধ্যে চ্যাটজিপিটি, ক্লড, ডিপসিক, গ্রক এবং জেমিনি রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার দেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে এআইয়ের গুরুত্বের কথাও বলেছে।

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৩ সালের লিটারেসি অ্যাসেসমেন্ট সার্ভের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সি বাংলাদেশি শিশুদের প্রায় অর্ধেক একটি সাধারণ গল্প পড়ে তা বুঝতে ব্যর্থ হয়। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪০ শতাংশ নিরক্ষর বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জেনারেটিভ এআই এমন টেক্সটভিত্তিক বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি করতে পারে যা মানুষের তৈরি বিষয়বস্তুর সঙ্গে আলাদা করা কঠিন এবং মানুষের মতামত প্রভাবিত করার ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হতে পারে।

তবে প্রতিবেদনে এআই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ উপেক্ষা না করে এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে শক্তিশালী এআই প্রযুক্তির অবাধ প্রবেশের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুবিধা নিয়ে বিশদ মূল্যায়ন করা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker