ভোটে হেরে পরপর ধাক্কা! এবার মমতার ‘১ সেকেন্ড’ মন্তব্য নিয়ে থানায় দায়ের অভিযোগ

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের চর্চার কেন্দ্রে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর একাধিক বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের সভা থেকে দেওয়া একটি মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। সেই আবহেই আরও একটি পুরনো বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি জটিলতায় জড়ালেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে FIR
জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গে নাম না করে মন্তব্য করার অভিযোগে শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এক আইনজীবী। সেই মামলার তদন্ত চলছে, এর মধ্যেই এবার তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। সূত্রের খবর, এক ব্যবসায়ী তাঁর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ তুলে থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের শুরুতে, ভোটের আবহে ধর্মতলার একটি রাজনৈতিক সভা থেকে। সেই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেছিলেন, “আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি তখন এক সেকেন্ড লাগবে! একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, তখন ঘিরে ফেললে ১ সেকেন্ডে দেবে একদম ১২টা বাজিয়ে দেবে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে ভুল বুঝবেন না।”
সভামঞ্চ থেকে দেওয়া এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের একাংশও প্রশ্ন তোলেন, সাংবিধানিক পদে থাকা একজন রাজনৈতিক নেতার মুখে এমন বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য। বিষয়টি নিয়ে সেই সময় থেকেই বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার সেই বক্তব্যকেই সামনে রেখে কলকাতার হেয়ারস্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন :হকার উচ্ছেদ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন বিশেষ স্কিমের আশ্বাস
পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে মামলা রুজু করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলেও সূত্রের দাবি। তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। পরপর একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে তৃণমূল শিবিরের উপর। এখন পুলিশ প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।




