রাজ্যপালের উপস্থিতিতে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী, পিঠ চাপড়ে দিলেন মোদি

বাংলা হান্ট ডেস্ক : দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, আন্দোলন এবং টানটান নির্বাচনী লড়াইয়ের পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এল ভারতীয় জনতা পার্টি। শনিবার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রীর এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে প্রথমবার বাংলায় সরকার গঠন করল বিজেপি। একইসঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
শপথ নিলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)
শনিবার সকাল থেকেই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিজেপি সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। সকাল ১১টায় শুরু হয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। রাজ্যপাল আর এন রবির উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুভেন্দুর পিঠ চাপড়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।
নতুন সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগেই সভাস্থলে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছাদখোলা গাড়িতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিন নেতাকে হাত নেড়ে উপস্থিত জনতাকে অভিবাদন জানাতে দেখা যায়। সেই মুহূর্তে ব্রিগেড চত্বরে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
পঁচিশে বৈশাখ তথা রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনেই এই শপথ অনুষ্ঠান হওয়ায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় সাংস্কৃতিক আবহকেও। মঞ্চে উঠে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এরপর জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়াও শপথ গ্রহণের মঞ্চে দেখা যায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, শিবরাজ সিং চৌহান এবং জেপি নাড্ডাকে। মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর শপথ গ্রহণের পর, তাঁর মন্ত্রীসভার মন্ত্রীরা একে একে শপথ নেন।
আরও পড়ুন : ব্রিগেডে আজ ইতিহাস! শুভেন্দুর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মোদী-শাহ-সহ ২০ মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি
রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দিনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে বাংলায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বিজেপি সরকার। এখন নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজ্যের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করা।



