রাহুল গান্ধীর ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে, কটাক্ষ বিহারের মন্ত্রী রামকৃপাল যাদবের

পাটনা, ২ নভেম্বর : লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন কখনও পূরণ হবে না বলে কটাক্ষ করলেন বিহারের মন্ত্রী রামকৃপাল যাদব। তাঁর দাবি, বংশপরম্পরার রাজনীতির দিন শেষ হয়ে গিয়েছে এবং দেশের মানুষ এখন গণতন্ত্র ও সংবিধানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন।
সোমবার আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রামকৃপাল যাদব বলেন, “রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস দল কবে ক্ষমতায় আসবে? রাহুল গান্ধীর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। সেই দিন আর নেই, যখন বলা হত আমার দাদু হয়েছেন, বাবা হয়েছেন, মা হয়েছেন, এবার আমিও হব।”
তিনি আরও বলেন, সেই সময় এখন অতীত। দেশে গণতন্ত্র জীবন্ত রয়েছে এবং সংবিধান রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষ যথেষ্ট সচেতন।
সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার বিষয়ে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন বিহারের এই মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের শাসনকালেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধান সুরক্ষিত ছিল না। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের আমলেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, তাঁদের কলম থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।”
রামকৃপাল যাদবের দাবি, জরুরি অবস্থার সেই সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনও মানুষের মনে রয়েছে। দেশের মানুষ সেই সময়ের কথা ভোলেননি। কংগ্রেসের উচিত নিজেদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে আত্মসমালোচনা করা।
রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধী ও তাঁর সমর্থকদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁরা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে দেশ এই ধরনের পরিস্থিতি মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, রবিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ইন্ডিয়া ব্লক মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। অন্যদিকে, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা মিছিল করে বিজেপি।
মিন্টো রোড- কনট প্লেস সংযোগস্থল থেকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ‘চলো দিল্লি’ মিছিল শুরু হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই মিছিল শেষ হয় রামলীলা ময়দানে। সেখানে ইন্ডিয়া ব্লকের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেজস্বী যাদব ও অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতা।
অন্যদিকে, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় নিহতদের স্মরণে পশ্চিম দিল্লির শিখ-অধ্যুষিত হরি নগর এলাকা থেকে বিজেপির মিছিল শুরু হয়ে তিলক নগর মেট্রো স্টেশনে শেষ হয়। দাঙ্গার বর্ষপূর্তির দিনেই কংগ্রেসের সমাবেশ আয়োজনের সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিজেপি।
এদিকে, বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন হরিয়ানার রোহতকে ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ মিছিলে নেতৃত্ব দেন।



