0%

৩৬৪ দিনই জলের নিচে বিগ্রহ, কেরলমের এই মন্দির ঘিরে রয়েছে বিস্ময়কর কাহিনি

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে এমন বহু মন্দির, যাদের ঘিরে প্রচলিত বিশ্বাস শুনলে অবাক হতে হয়। কোথাও দেবতার পুজো হয় অদ্ভুত নিয়মে, কোথাও আবার এমন কিছু প্রথা মেনে চলেন ভক্তরা, যার ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তেমনই এক রহস্যময় মন্দির রয়েছে কেরলমে। সেখানে বছরের প্রায় পুরোটাই জলের নিচে ডুবে থাকে মহাদেবের শিবলিঙ্গ! ভাবছেন, তা হলে ভক্তরা কীভাবে দেবতার দর্শন করেন? আশ্চর্যের বিষয়, বছরের ৩৬৫ দিনের মাত্র একটি দিনই এই শিবলিঙ্গ দর্শনের সুযোগ মেলে। আর সেই বিশেষ দিনটি হল মহাশিবরাত্রি। এই মন্দিরের এমন ব্যতিক্রমী রীতি এবং তার পিছনে থাকা বিশ্বাস পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।

কোথায় রয়েছে এই মন্দির?

কেরলমের মালাপ্পুরম জেলার আরক্কুপারম্বায় অবস্থিত শ্রী অর্ধনারীশ্বর মন্দির। পেরিনথালমন্না থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এই প্রাচীন ধর্মীয় স্থান। মন্দিরের প্রধান আরাধ্য দেবতা অর্ধনারীশ্বর। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শিব ও পার্বতীর সম্মিলিত রূপই হল অর্ধনারীশ্বর। তবে এই মন্দিরের পরিচিতির পিছনে রয়েছে এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এখানে প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গ বছরের ৩৬৪ দিনই জলের নিচে নিমজ্জিত থাকে। সাধারণ দিনে মন্দিরে এলেও ভক্তরা শিবলিঙ্গের দর্শন পান না। কেবল মহাশিবরাত্রির দিন মন্দিরের ভিতরে জমে থাকা জল বের করে দেওয়া হয়। তখনই প্রকাশ্যে আসে শিবলিঙ্গ। এই বিশেষ দিনে মহাদেবের দর্শন পেতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য পুণ্যার্থী। মন্দিরে যাওয়ার পথটিও জলবেষ্টিত। ফলে গোটা পরিবেশে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবহ।

শুধু মন্দিরের অভিনব বৈশিষ্ট্য নয়, দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তির কামনায়ও এই মন্দিরের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস, এখানে ভক্তিভরে পুজো দিলে বিয়ের ক্ষেত্রে থাকা নানা বাধা কেটে যায়। পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক আরও মজবুত হয় এবং সংসারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে। এই মন্দিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার হল উমা মহেশ্বর পুজো। বিবাহে বাধা দূর করা, দাম্পত্য জীবনের অশান্তি কাটানো এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালবাসা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া অটুট রাখার প্রার্থনায় এই পুজো দেন ভক্তরা। এ ছাড়াও বিভিন্ন উৎসবের সময়ে এখানে ‘পট্টুম থালিয়ুম সমর্পণম’ নামে একটি বিশেষ ধর্মীয় রীতি পালন করা হয়। সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনের আশায় বহু ভক্ত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কখন যেতে পারবেন এই মন্দিরে?

বছরের বিভিন্ন সময়ে মন্দিরে একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসবের আয়োজন করা হয়। ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারি মাসে পাঁচ দিন ধরে পালিত হয় বার্ষিক উৎসব। এই সময় মন্দির চত্বরে ভক্তদের সমাগম বাড়ে। মন্দিরের দরজা প্রতিদিন দু’বার ভক্তদের জন্য খোলা থাকে। সকাল ৬টা থেকে ৯টা ৩০ মিনিট এবং বিকেলে ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শন করা যায়। মন্দিরে আগত পুণ্যার্থীদের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে।

কী ভাবে পৌঁছবেন?

বিমানপথে: নিকটবর্তী বিমানবন্দর হল কালীকট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখান থেকে মন্দিরের দূরত্ব আনুমানিক ৪০-৫০ কিলোমিটার। বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করে সরাসরি মন্দিরে পৌঁছনো যাবে।

রেলপথে: নিকটবর্তী রেলস্টেশন অঙ্গাডিপুরম। স্টেশন থেকে অটো, বাস অথবা ট্যাক্সি নিয়ে মন্দিরে যাওয়া যায়।

মহাদেবের এমন ব্যতিক্রমী মন্দিরের কথা অনেকের কাছেই অজানা। বছরের একটি বিশেষ দিনেই শিবলিঙ্গ দর্শনের সুযোগ মেলে বলে মহাশিবরাত্রির সময় এই মন্দিরে ভক্তদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker