0%

ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী! আফগানিস্তানে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ করল তালিবান

‘শিব ঠাকুরের আপন দেশে আইন-কানুন সর্বনেশে’। তালিবান শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় পর এমনই সর্বনেশে আইন-কানুনের সঙ্গে যুজতে হচ্ছে আফগানিস্তানের জনগণকে। শরিয়ত আইনের কড়াকড়িতে আফগানিস্তানে এবার কোণঠাসা চিকিৎসাবিজ্ঞান। ইসলামের পরিপন্থী এই অভিযোগে আফগানিস্তানে নিষিদ্ধ হল চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী এই অভিযোগে দেশে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তালিবানের এই নিষেধাজ্ঞার জেরে শত শত দৃষ্টিহীন আফগান নাগরিক দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। কাবুলের নূর আই হাসপাতালের চিকিৎসক ডক্টর নূর জামান হাশিম জানান, তালিবানের মৌখিক নির্দেশের জেরে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন স্থগিত করা হয়। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “গত কয়েক দশকের লাগাতার হিংসা আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রতিস্থাপনের চাহিদা মেটাতে আমাদের পর্যাপ্ত চক্ষু বিশেষজ্ঞ বা স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য কর্নিয়া নেই। এর মাঝেই চিকিৎসা বন্ধের এই নির্দেশ দেওয়া হল। কঠোর শাস্তির ভয়ে এখন দেশে কারও ক্ষমতা নেই এই আদেশ অমান্য করে।”

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী এই অভিযোগে দেশে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অবশ্য আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর ইসলামের দোহাই দিয়ে কার্যকর হয়েছে একের পর এক বিতর্কিত আইন। ক্ষমতায় আসার পরই আফগানিস্তানে মহিলাদের বিরুদ্ধে দাঁত-নখ বের করে তালিবান। ষষ্ট শ্রেণির পর মেয়েদের পড়াশোনা নিষিদ্ধ করা হয়। কর্মক্ষেত্রেও নিষিদ্ধ করা হয় মেয়েদের। প্রকাশ্যে গান গাওয়া, অপরিচিত পুরুষের দিকে তাকানো বা একা চলাফেরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। ২০২৪ সালে আইন এনে মহিলাদের মুখের পাশাপাশি গোটা শরীর ঢাকার নিদান দেওয়া হয়। বাল্যবিবাহকে বৈধতা দেয় তালিবান।

শুধু তাই নয়, তালিবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা স্বাক্ষরে নতুন দণ্ডবিধিতে পরিবারে বা স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতনকে একরকম বৈধতা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যতক্ষণ না তা হাড় ভাঙা বা খোলা ক্ষতের সৃষ্টি করে ততক্ষণ পর্যন্ত আঘাত গুরুতর নয়। হাড় ভাঙলে বা দৃশ্যমান গুরুতর আঘাত হলে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের জেলের বিধান রয়েছে।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker