নেই ফুড লাইসেন্স নেই! রাজুর পকেট পরোটার দোকানে হানা খাদ্য সুরক্ষা দফতরের, কী কী নির্দেশ দিলেন আধিকারিকরা?

SOBDIK NEWS: মাত্র ৩০ টাকায় তিনটি পরোটা, সঙ্গে যত খুশি তরকারি আর একটি ডিম সেদ্ধ। এই খাবারের জন্যই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছেন কলকাতার রাজু ঘোষ (Raju Pocket Paratha)। তাঁর দোকানে প্রতিদিনই ভিড় করেন অনেক মানুষ। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে আসেন পকেট পরোটা খেতে। এবার সেই জনপ্রিয় দোকানেই পৌঁছে গেলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। দোকানের খাবার কতটা ভালো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঠিকমতো রাখা হচ্ছে কি না, তা দেখতেই এই পরিদর্শন।
Raju Pocket Paratha : রাজুর দোকানে কী কী দেখলেন আধিকারিকরা?
শনিবার সকালে NRS হাসপাতালের কাছে রাজুর পকেট পরোটার (Raju Pocket Paratha) দোকানে যান খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। দোকানের খাবার এবং রান্নার জিনিসপত্র ভালো করে দেখেন তাঁরা। পরোটা, তরকারি এবং ডিম সেদ্ধ কীভাবে রাখা হচ্ছে, সেটাও খতিয়ে দেখা হয়। আধিকারিকদের কথামতো সবকিছু দেখান রাজু।
পরিদর্শনের সময় জানা যায়, রাজুর দোকানে (Raju Pocket Paratha) কোনও ফুড লাইসেন্স নেই। তবে এখনই দোকান বন্ধ করার কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কীভাবে ফুড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে, তা রাজুকে বুঝিয়ে দিয়েছেন আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, দোকানের খাবারের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলি পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই খাবারের মান সম্পর্কে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের এক আধিকারিক।
এদিকে রাজু নিজেও জানিয়েছেন, তাঁর দোকানে এখনও ফুড লাইসেন্স নেই। আধিকারিকরা তাঁকে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার পদ্ধতি বুঝিয়ে দিয়েছেন। সেই মতো তিনি আবেদন করবেন। ভবিষ্যতে আরও বড় জায়গায় দোকান খোলার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁর। সেখানে খাবারের নিরাপত্তা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সব নিয়ম মেনে চলবেন বলে জানিয়েছেন রাজু।
দোকান পরিষ্কার রাখার জন্যও কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন আধিকারিকরা। রাজুর কথায়, লাল গামছার বদলে পরিষ্কার সাদা গামছা ব্যবহার করতে বলেছেন তাঁরা। ডিম সেদ্ধ আলাদা পাত্রে রাখতে এবং স্যানিটাইজারও আলাদা করে রাখার কথা বলেছেন। পাশাপাশি, রান্নায় কী কী মশলা ব্যবহার করা হয়, সেটাও জানতে চেয়েছেন আধিকারিকরা।
রাজু জানিয়েছেন, প্রতিদিন বাড়িতেই ময়দা মেখে পরোটা তৈরি করেন তিনি। তরকারিও বাড়িতে রান্না করে দোকানে নিয়ে আসেন। প্রতিদিন তাঁর দোকানে প্রায় ১০০ জন খেতে আসেন। তাঁদের মধ্যে NRS হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে থাকা পরিবারের লোকজনও রয়েছেন। তাই যাঁরা তাঁর দোকানে খেতে আসেন, তাঁদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখা তাঁর দায়িত্ব। আধিকারিকরা তাঁকে যে পরামর্শ দিয়েছেন, তাতে তিনি খুশি।
প্রসঙ্গত, পুজোর আগে থেকেই কলকাতার বিভিন্ন খাবারের দোকানে পরিদর্শন চালাচ্ছেন পুরসভার আধিকারিকরা। রাস্তার ধারের খাবারের দোকানে খাবারের মান এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঠিক আছে কি না, সেটাই দেখা হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন দোকানে গিয়ে বেশ কিছু সমস্যা সামনে এসেছে। কোথাও নর্দমার উপরে রান্না হচ্ছিল, কোথাও হলুদে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগ উঠেছিল। আবার কোনও কোনও রান্নাঘরে ইঁদুর, আরশোলা, টিকটিকি এবং মাছিও দেখা গিয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ পেঁয়াজের কেজি ৮০, সর্ষের তেল ২০০! কবে কমবে দাম? জানালেন ব্যবসায়ীরা
সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজুর দোকানের (Raju Pocket Paratha) জনপ্রিয়তা এখন অনেকটাই বেড়েছে। ফুড ব্লগারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ এবং অফিসযাত্রীরাও তাঁর দোকানে ভিড় করেন। তাই তাঁর দোকানে আধিকারিকদের হানার খবর সামনে আসতেই অনেকের মনে প্রশ্ন ওঠে, এবার কি বন্ধ হয়ে যাবে রাজুর পকেট পরোটা? তবে আপাতত দোকান বন্ধ করার কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। খাবারের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা জানা যাবে।



