“সাহস থাকলে আবার নির্বাচনে দাঁড়ান” মমতাকে ফের ভোটে লড়ার চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর | Suvendu Adhikari Dares Mamata Banerjee to Contest Again

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) টানা ১৫ বছর রাজত্ব চালিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। এই দীর্ঘ শাসনের অবসানের পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে (Mamata Banerjee) ফের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই শাসনের অবসান ঘটে। নির্বাচনে প্রথমে ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা। এরপর ২০২৬ সালে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও শুভেন্দুর কাছে হারতে হয় তাঁকে। পরপর দুই নির্বাচনী লড়াইয়ে মমতাকে হারানোর প্রসঙ্গ তুলে এবার ফের তাঁকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “সাহস থাকলে আবার নির্বাচনে দাঁড়ান। আমি আপনাকে দু’বার হারিয়েছি, আবারও হারাব।”
কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?
শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ সভা থেকে মমতা ব্যানার্জিকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় রাজনৈতিক জমি হারিয়ে এখন কংগ্রেস ও সিপিএমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তৃণমূল নেত্রী। একসময় কংগ্রেস ছেড়েই তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন মমতা। অথচ রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে এখন সেই কংগ্রেসেরই দ্বারস্থ হচ্ছেন বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “আপনার বাংলায় আর কিছু নেই। দিল্লিতে চলে যান।” পাশাপাশি সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে মমতার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভেন্দুর কটাক্ষ, যে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেই তৃণমূলের জন্ম, এখন সেই দলের সঙ্গেই সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
মমতাকে দিল্লিতে গিয়ে রাজনীতি করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের ‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত কর্মসূচিতে মমতার যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রামলীলা ময়দানে যান। পশ্চিমবঙ্গে আপনার আর কিছু অবশিষ্ট নেই। যতবার নির্বাচনে লড়বেন, ততবারই হারবেন।” তাঁর দাবি, ভবানীপুরে নিজের পাড়া, ওয়ার্ড এমনকী নিজের বুথেও পরাজিত হয়েছেন মমতা। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পঞ্চায়েত নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইন্দ্রনীল কাণ্ডে জড়িত তাঁর স্ত্রীও? এবার মধুছন্দাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ
এদিন শুধু মমতা নন, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জিকেও নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ জানান শুভেন্দু। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভিষেককে তাঁর নিজের কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবার থেকেই লড়ার আহ্বান জানান তিনি। শুভেন্দুর দাবি, অভিষেক ২০২৪ সালে যে ব্যবধানে জিতেছিলেন, তার চেয়েও অন্তত একটি ভোট বেশি ব্যবধানে তাঁকে হারাবেন। এমনকি সিপিএমের সমর্থন পেলেও অভিষেকের জয় নিশ্চিত হবে না বলে কটাক্ষ করেন তিনি। দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে অভিষেক নিজের ব্যক্তিগত জমিদারি হিসেবে ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, জেলায় বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পঞ্চায়েত নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল।
এদিকে রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসা, দুর্নীতি এবং জমি দখলের অভিযোগ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় যাঁরা এখনও পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেননি, তাঁদের অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, “পুলিশমন্ত্রী হিসেবে দায়ীদের জেলে পাঠানো আমার দায়িত্ব।” একইসঙ্গে বেআইনিভাবে দখল হওয়া সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করে দরিদ্র মানুষ, বিশেষত তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্তদের মধ্যে বিলি করার প্রতিশ্রুতিও দেন। তৃণমূল আমলের দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “বড় চোর কবে জেলে যাবে, সেই প্রশ্ন আপনাদের মনে রয়েছে। চিন্তা করবেন না, সময় হলেই হবে।”



