স্মার্ট গ্লাসের মতো ‘এআই অ্যাসিস্ট্যান্টে’ গোপনীয়তার দফারফা! উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা

এআই অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কয়েক বছর আগেও যা ছিল কল্পবিজ্ঞানের উপকরণ। এখন তা ঘোরতর বাস্তব। স্মার্ট গ্লাসের মতো ‘এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হয়ে উঠছে সর্বক্ষণের সঙ্গী। আসলে এই ধরনের শরীর-সংলগ্ন ডিভাইসগুলি ব্যক্তিগত ট্র্যাকিং থেকে ব্যক্তিগত সহকারীর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তিকে। কিন্তু জানেন কি এতে লঙ্ঘিত হতে পারে আপনার গোপনীয়তা? অন্তত তেমনই উদ্বেগ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
সম্প্রতি ‘গ্লোবাল ডেটা’র টেলিকম বিভাগের সিনিয়র অ্যানালিস্ট আমান্ডা মিচেল বলেছেন, “এআই পরিধানযোগ্য ডিভাইসগুলিকে ট্র্যাকিংয়ের গণ্ডি থেকে বের করে অ্যাসিস্ট্যান্ট করে তুলছে। ডিভাইস বা এআই এজেন্টের ধরন অনুযায়ী, এই নতুন প্রযুক্তিগুলো ফোন হাতে না নিয়েই ফ্লাইট বুক করা, মুদির দোকানে কেনাকাটা করা, কথোপকথনের আগের অংশ আবার শোনার মতো কাজগুলো করতে পারে। স্মার্ট গ্লাস, ক্লিপ-অন ডিভাইস থেকে শুরু করে স্মার্টওয়াচ পর্যন্ত— প্রতি সপ্তাহেই নতুন নতুন পরিধানযোগ্য ডিভাইস বাজারে আসছে, যা এআইয়ের সাহায্যেই কাজ করে।”
কিন্তু এতে গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হতে পারে কীভাবে? মিচেল এই সম্পর্কে জানাচ্ছেন, ”এর ফলে এই জটিল দিকটি সামনে আসছে। স্মার্টগ্লাস এমন সব রেকর্ডিং করতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানতেই পারছে না। এছাড়া অন্যান্য ডিভাইস আপনার মাইক্রোফোন, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য, ইমেল, ক্যালেন্ডার এবং কথোপকথনের মতো ব্যক্তিগত তথ্যের নাগাল পেতে পারে। গ্রাহকদের চাপের মুখে মেটা তাদের স্মার্ট গ্লাসে থাকা রেকর্ডিংয়ের আলোয় পরিবর্তন এনেছে, কিন্তু সামগ্রিক ভাবে ছবিটা অন্য। প্রযুক্তি দুনিয়া নতুন নতুন ডিভাইস বাজারে আনার ক্ষেত্রে যতটা তৎপর, ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত পরিসরে অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ কমানোর ক্ষেত্রে ততটা নয়।”
তবে সেই সঙ্গেই তিনি জানাচ্ছেন, কোনও কোনও ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় ডেটা প্রোটেকশন বোর্ড বলছে, গোপনীয়তা রক্ষার দায়ভার কেবল ব্যবহারকারীর ওপর চাপিয়ে দিয়ে নির্মাতারা নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। সেই সঙ্গেই তিনি তুলে দিয়েছেন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সবসময় ‘হাতে গরম’ সহায়তা পাওয়ার বিনিময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নিজেদের জীবনে এতটা প্রবেশাধিকার দেওয়া আদৌ যুক্তিযুক্ত কি না।
শেয়ার
লিংক



