‘সীতা’ সাই পল্লবীর ত্বকে ব্রণ! ‘লালচে গাল’ আসলে কোন রোগের লক্ষণ?

‘রামায়ণ’ ছবিকে ঘিরে চর্চার মাঝেই অভিনেত্রী সাই পল্লবীর এক পুরনো সাক্ষাৎকার নতুন করে নজর কাড়ছে। যেখানে তিনি নিজের ত্বকের ব্রণ বা লালচে দাগ নিয়ে খোলামেলা জানিয়েছিলেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। পর্দায় হোক বা বাস্তব জীবনে, স্বাভাবিক চেহারায় থাকতে পছন্দ করেন তিনি। সাই পল্লবীর কথায়, ব্রণ থাকা সত্ত্বেও দর্শক যখন তাঁকে আপন করে নিয়েছিলেন, তখনই বুঝেছিলেন, প্রকৃত সৌন্দর্য আসলে আত্মবিশ্বাসে। কিন্তু ব্রণ ও রোজেশিয়া কি একই সমস্যা? কীভাবে চিনবেন ত্বকের এই অসুখ, আর কী তার চিকিৎসা?
রোজেশিয়া কী? মুখ লাল হয়ে যাওয়াই কি এর লক্ষণ?
রোজেশিয়া মুখের ত্বকের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত সমস্যা। সাধারণত গাল, নাক, কপাল ও থুতনিতে এর লক্ষণ দেখা যায়। মুখের ত্বক দীর্ঘক্ষণ লাল হয়ে থাকা, বারবার মুখে গরম অনুভূতি, ত্বকের উপরিভাগে সূক্ষ্ম রক্তনালি ফুটে ওঠা এবং ব্রণের মতো ছোট ছোট দানা তৈরি হওয়া এর পরিচিত লক্ষণ। কারও ক্ষেত্রে ত্বকে জ্বালা, খোঁচা লাগার মতো অনুভূতি ও অতিরিক্ত সংবেদনশীলতাও দেখা দিতে পারে।
ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখে ব্রণের মতো দানা, বারবার লাল হয়ে যাওয়া বা গরম অনুভূতি হলে রোজেশিয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা দরকার। তবে শুধু লক্ষণ দেখে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় করা উচিত নয়।
সাধারণ ব্রণ আর রোজেশিয়া এক নয়
মুখে দানা বা ফুসকুড়ি দেখা দিলেই অনেকে সেটিকে সাধারণ ব্রণ বলে ধরে নেন। কিন্তু দু’টি সমস্যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ ব্রণ মূলত রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ ও প্রদাহের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস এবং বিভিন্ন ধরনের ব্রণ দেখা যায়।
অন্যদিকে, রোজেশিয়ায় মুখের লালচে ভাব, বারবার মুখ লাল হয়ে যাওয়া, সূক্ষ্ম রক্তনালি দৃশ্যমান হওয়া এবং প্রদাহযুক্ত দানা বেশি দেখা যায়। সাধারণত রোজেশিয়ায় ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস থাকে না।
এই পার্থক্য জানা জরুরি। কারণ, সাধারণ ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু প্রসাধনী বা ওষুধ রোজেশিয়ায় আক্রান্ত ত্বকে জ্বালা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন মুখ লাল হয়ে থাকলে, ত্বকে জ্বালা করলে বা ব্রণের মতো দানা দেখা দিলে ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

কোন অভ্যাসে বাড়তে পারে সমস্যা?
রোজেশিয়ার নির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি জানা না থাকলেও, রোদে থাকা, অতিরিক্ত গরম, মানসিক চাপ, ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার এবং মদ্যপান কারও কারও ক্ষেত্রে উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। সবার ক্ষেত্রে একই কারণে সমস্যা বাড়ে না।
কখন মুখ লাল হচ্ছে বা ত্বক জ্বালা করছে, তা মনে রাখলে কারণগুলি চিহ্নিত করতে সুবিধা হতে পারে। যেমন, রোদে বেরনোর পরে, গরম জলে স্নানের পরে বা ঝাল খাবার খাওয়ার পর কারও মুখে লালচে ভাব বাড়তে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অকারণে অনেক খাবার বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি, নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং ত্বকের উপযোগী মৃদু প্রসাধনী বেছে নেওয়াও জরুরি।
রোজেশিয়ার চিকিৎসা কী?
রোজেশিয়ার স্থায়ী নিরাময়ের কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা এখনও নেই। তবে উপযুক্ত চিকিৎসায় উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রোগের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসক ত্বকে লাগানোর ওষুধ, খাওয়ার ওষুধ বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে লেজার চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।
ত্বকের যত্নে মৃদু ক্লিনজার, সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজার এবং রোজ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বকে জ্বালা তৈরি করতে পারে এমন স্ক্রাব, কড়া রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনী এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ এড়িয়ে চলুন। অন্য কারও ব্যবহৃত ওষুধ নিজের ত্বকে ব্যবহার করাও ঠিক নয়।

শুধু ত্বক নয়, চোখেও সমস্যা হতে পারে
রোজেশিয়ার প্রভাব কখনও চোখেও পড়তে পারে। চোখে শুষ্কতা, জ্বালা, জল পড়া, চোখে কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি বা চোখের পাতার চারপাশে লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। চোখে দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চোখে ব্যথা, আলো সহ্য করতে অসুবিধা বা দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা করানো জরুরি।
নিখুঁত ত্বক নয়, আত্মবিশ্বাসই আসল
সাই পল্লবীর অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, ত্বকের সমস্যা কারও সৌন্দর্য বা ব্যক্তিত্বের মাপকাঠি হতে পারে না। বিশেষত বিনোদন জগতে নিখুঁত ত্বক নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়, তার চাপে অনেকেই অকারণে হীনম্মন্যতায় ভোগেন। অথচ নিজের স্বাভাবিক চেহারাকে গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা, দুই-ই পাশাপাশি চলতে পারে।
মুখে ব্রণ, লালচে ভাব বা দীর্ঘদিনের জ্বালা থাকলে তা লুকিয়ে রাখার বদলে সমস্যার কারণ জানা জরুরি। লক্ষ্য ত্রুটিহীন ত্বক নয়, বরং সুস্থ ত্বক এবং নিজের চেহারা নিয়ে স্বচ্ছন্দ থাকা। সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসায় ত্বকের অস্বস্তি কমানো সম্ভব, বাড়তে পারে আত্মবিশ্বাসও।
শেয়ার
লিংক



