0%

হাসপাতালে কমবে বিল ও ওষুধের দাম? ‘লুট মেনে নেওয়া যাবে না’ বলল সুপ্রিম কোর্ট

অনন্যা সরকার, কলকাতা: সম্প্রতি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর (Private Hospital) অত্যধিক চিকিৎসার খরচ ও ওষুধের উচ্চমূল্য নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া প্রশ্নবাণের মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ও মুনাফা অর্জনের অজুহাত দেখিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যে রোগীদের পরিবারের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করছে, তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া প্রশ্নের মুখে সরকার

সম্প্রতি চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ আর্থিক বোঝা নিয়ে দায়ের করা একটি মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে যে, হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালানোর অন্যান্য উপায় থাকলেও, রোগীদের এভাবে ‘লুট’ করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রোগীদের ওপর যে প্রচণ্ড আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে তা নিয়েও আদালত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলেছে যে, যে খাতে একজন রোগীর জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িত রয়েছে, সেখানে এমন ‘পুঁজিবাদী মানসিকতা’ কীভাবে যৌক্তিক হতে পারে?

আর উত্তরে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে, তারা ওষুধের দামের ওপর নিয়মিত নজরদারি চালায়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই দাবিকে তৎক্ষণাৎ চ্যালেঞ্জ জানায়। ক্যানসারের একটি ওষুধের দামের বিশাল পার্থক্যের উদাহরণ টেনে আনা হয়। আদালত মন্তব্য করে, ওই ওষুধটি কোথাও ১১ হাজার টাকায়, আবার কোথাও ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সঠিক নজরদারি থাকলে দামের এই রকম পার্থক্য হয় কী করে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। 

আরও পড়ুন: বড় সাফল্য রেলের, পুজোর মরসুমে টয় ট্রেন থেকে আয় ১.৪১ কোটি টাকা

সুপ্রিম কোর্ট এ-ও পর্যবেক্ষণ করেছে যে, একবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রোগী ও তার পরিবারের কাছে খরচের বিষয়ে দরকষাকষি করার জায়গা থাকে না। এছাড়া, ওষুধের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তুলেছে। সুপ্রিম কোর্ট সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে, যে ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) ১০০ টাকা, তা কীভাবে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করা হয়?

আরও পড়ুন: পাত্রের বয়স ৪২, পাত্রী মাত্র ১৮! মুর্শিদাবাদে আজব বিয়ে ঘিরে তুমুল চর্চা স্থানীয়দের

এর সাথেই সুপ্রিম কোর্ট সরকারের কাছে জানতে চায় যে, ওষুধের দামের অসামঞ্জস্যের কারণে ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছে যে ৩০ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, তা কেন এখনও আদায় করেনি সরকার? যদিও আদালত এই কঠোর পর্যবেক্ষণগুলি তুলে ধরেছে, তবে এই মামলায় এখনও কোনো চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়নি।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker