পোস্ট মোছার পরও নিশিকান্তকে ‘ফেক ডিগ্রিওয়ালা’ বললেন মহুয়া, পালটা ‘ভাবিজি’ খোঁচা বিজেপি সাংসদের

বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেকে অপমান! আদালতের চাপে পড়ে বিতর্কিত পোস্ট মুছতে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। কিন্তু পোস্ট ডিলিট করলে কী হবে? গোড্ডার বিজেপি সাংসদকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না মহুয়া। এক সোশাল মিডিয়া পোস্ট ফের নিশিকান্তকে ‘ফেক ডিগ্রিধারী’ বলে তোপ দাগলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক। পালটা কটাক্ষ এল নিশিকান্তর তরফেও।
আসলে কিছুদিন আগে সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে মহুয়া ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার সাংসদকে ‘ফেক ডিগ্রি কিসম কে আদমি’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। সেই পোস্ট নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন বিজেপি সাংসদ। দিল্লি হাই কোর্টে মহুয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। মঙ্গলবার শুনানিপর্বে মহুয়ার আইনজীবী আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল ওই পোস্ট ডিলিট করতে রাজি। তবে তাঁর আইনজীবী স্পষ্ট করেন, এই বিবাদ রাজনৈতিক। নিশিকান্তের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে মহুয়ার। বিচারপতি তুষার রাও গেডেলা ওই ধরনের শব্দ প্রয়োগে আপত্তি জানান এবং একে ‘অপমানজনক’ বলে চিহ্নিত করেন।
আদালতের নির্দেশ মতো নিজের আসল পোস্টটি ডিলিট করেন মহুয়া। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, “দুবের ভুয়ো ডিগ্রির কিন্তু কোনও জয় হয়নি। প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষ গর্গের বক্তব্যের উপর আদালত বিধিনিষেধ জারি করেছে যাতে তিনি ‘ভুয়ো ডিগ্রি দুবে’র বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেইলার’ শব্দ ব্যবহার না-করতে পারেন। আমি ওই পোস্ট রিটুইট করেছিলাম। তাই সেটি সরিয়ে নিয়েছি। আদালত কিন্তু আমাকে কোনওভাবেই তাঁকে ‘ফেক ডিগ্রি দুবে’ বলা থেকে বিরত করতে বারণ করেনি।” মহুয়ার ওই পোস্টেও বার দুই দুবে-কে ফেক ডিগ্রিধারী বলে কটাক্ষ করা হয়েছে।
মহুয়ার সেই পোস্ট আবার শেয়ার করেছেন নিশিকান্ত নিজে। রীতিমতো চটুল ইঙ্গিতে তিনি বলেছেন, “ভাবিজি, আপনার অপমান সহ্য হয় না।” আসলে মহুয়ার সঙ্গে নিশিকান্তর বিবাদ বহু পুরনো। এই নিশিকান্ত দুবের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০২৩ সালে মহুয়ার সাংসদ পদ বাতিল হয়েছিল। নিশিকান্তর অভিযোগ ছিল ব্যবসায়ী বন্ধু দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং দামি উপহার নিয়ে তাঁকে সংসদের ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড দেন তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর সাংসদ পদ খারিজ করে এথিক্স কমিটি।
শেয়ার
লিংক



