অর্ণবের ধাক্কা দার্জিলিং-সিকিমেও! বৃষ্টির চোটে ভরা মরশুমে মার খাবে পর্যটন?

ঝলমলে আবহাওয়া উত্তরে। নীল আকাশের ক্যানভাসে ভাসছে ‘স্লিপিং বুদ্ধ’। মনোরম আবহাওয়ায় পর্যটকের ভিড় বাড়ছে দার্জিলিং এবং সিকিমে। ট্রেকারদের ভিড়ে ঠাসা সান্দাকফু। যদিও আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব সরাসরি বঙ্গে ল্যান্ডফল না করলেও বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে শুক্রবার থেকে উত্তরের আবহাওয়া অনেকটাই পালটে যেতে পারে। দার্জিলিং ও সিকিমে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। রয়েছে ভূমিধসের আশঙ্কা। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের পাহাড় ভ্রমণে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তাহলে কি অর্ণবের ধাক্কা দার্জিলিং-সিকিমেও! বৃষ্টির চোটে ভরা মরশুমে মার খাবে পর্যটন?
আজ, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়াও বদল হতে শুরু করেছে। এদিন রাতে কলকাতার একাধিক জায়গায় টানা বেশ কিছু সময় মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। উপকূল অঞ্চলেও দমকা হাওয়া বইছে। উত্তাল হতে শুরু করেছে সমুদ্র। আগামী কাল, বুধবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পর্যটন বিভাগের মুখপাত্র সম্রাট সান্যাল বলেন, “ষষ্ঠী থেকে পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম।” সিঙ্গালীলা ল্যান্ড রোভার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চন্দন প্রধান জানান, এবার সান্দাকফুতে ট্রেকারদের ভিড় রয়েছে। বিদেশিরাও এসেছেন। পর্যটন সংস্থাগুলো সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার দার্জিলিং পাহাড়ের শহর এলাকা নয়। ভালো সংখ্যায় পর্যটক পাহাড়ের গ্রামীণ এলাকায় যাচ্ছেন। স্বভাবতই হোমস্টেগুলোতে ভিড় বাড়ছে।
দার্জিলিং হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা বিজয় খান্না বলেন, “পাহাড়ে হোটেল, হোমস্টে বুকিংয়ে ভালো সাড়া মিলছে। তবে এবার বেশিরভাগ পর্যটক শহরের তুলনায় গ্রামে থাকতে চাইছেন। ওই কারণে হোমস্টেগুলোতে বুকিং বেড়েছে।” দার্জিলিং হোটেল অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দার্জিলিং পাহাড়ে ৩৫০ হোটেল রয়েছে। দার্জিলিংয়ের পাশাপাশি সিকিমেও পর্যটকদের ভিড় গত বছরের মতো না হলেও ভালোই রয়েছে। পূর্ব ও উত্তর সিকিমের পর্যটন রুটগুলো খোলা রয়েছে। পর্যটকরা ছাঙ্গু লেক, বাবা মন্দির এবং নাথুলা পাসে বেশি ভিড় করছেন। সিল্ক রুটের কু-পুপু, নাথাং ভ্যালি ও জুলুক খোলা থাকায় অনেকেই সেখানে পাড়ি জমিয়েছেন। তুষারপাতের আশায় অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকরা যাচ্ছেন লাচেন, লাচুং এবং জংগু এলাকায়।
তবে বঙ্গোপসাগরে তৈরি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় উচ্ছ্বাসে বাদ সাধতে পারে, সেই আশঙ্কায় উদ্বেগ বেড়েছে পর্যটন সংস্থাগুলোতে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার থেকে দার্জিলিং ও সিকিম পাহাড়ে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ের উঁচু এলাকায় বেড়াতে যাওয়ার আগে স্থানীয় প্রশাসন অথবা ট্রাভেল এজেন্সি থেকে আবহাওয়া আপডেট জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শেয়ার
লিংক



