কেন্দ্রের নয়া আইনে ডিজিটাল মিডিয়ায় হস্তক্ষেপ? সুপ্রিম কোর্টে ২১ সংবাদমাধ্যম, তালিকায় আদানি-আম্বানিদের সংস্থাও

সোশ্যাল মিডিয়ার পর এবার ডিজিটাল মিডিয়াতেও রাশ টানতে উদ্যোগী কেন্দ্র! মোদি সরকারের প্রস্তাবিত ডিজিটাল সুরক্ষা আইনে আশঙ্কা সংবাদমাধ্যমের একাংশের। ওই প্রস্তাবিত আইনের বিরুদ্ধে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ২১টি সংবাদমাধ্যম। এর মধ্যে রয়েছে গৌতম আদানি, মুকেশ আম্বানিদের সংস্থাও।
আসলে কেন্দ্রীয় সরকার আগামী বছরের গোড়ায় ব্যক্তিগত ডিজিটাল তথ্য সুরক্ষা আইন চালু করতে চলেছে। ইতিমধ্যেই সংসদে এ নিয়ে বিল পেশ হয়েছে। ২০২১ সালে যে সোশ্যাল মিডিয়া আইন আনা হয়েছে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমগুলি তার আওতায় আসে না। কারণ, মিডিয়ার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর করলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়। সেকারণে গত বছর নতুন করে ব্যক্তিগত ডিজিটাল তথ্য সুরক্ষা আইনে সংশোধনী আনে সরকার। কেন্দ্রের তরফে বলা হয়, এবার এমন এক আইন আনা হবে যাতে ভুয়ো খবরও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে আবার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও খর্ব হবে না।
যদিও বহু সংবাদমাধ্যমের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের আইটি আইন এলে তা ঘুরপথে সংবাদমাধ্যমগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করবে। যা সংবিধানের ১৪ নম্বর এবং ১৯(১)(এ) ধারার বিরোধী। তাছাড়া কেউ অভিযোগ করলে সরকারের কাছে কোনও খবর মুছে দেওয়া, ব্লক করে দেওয়া বা ক্ষমা চাওয়ানোর রাস্তা আছেই। এবার সংবাদ প্রকাশকদের সংগঠন ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন ওই প্রস্তাবিত আইনের কয়েকটি ধারা বাতিলের দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। ওই সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, আগামী বছরের গোড়ার দিকে আইন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু আপত্তিকর ধারাগুলি এখনও সরানো হয়নি। আবেদনকারী সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, শুধু ইউরোপ আমেরিকা নয়, এশিয়াতেও বহু দেশে ডিজিটাল সুরক্ষা আইনে আলাদা করে উল্লেখ আছে যে সংশ্লিষ্ট অনেক ধারা সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু ভারত সরকারের আইনে সেসব নেই। ডিজিটাল সুরক্ষা আইনের একাধিক ধারায় আপত্তির রয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলির।
যে ২১টি সংবাদসংস্থা কেন্দ্রের ওই আইনের বিরুদ্ধে আবেদন করেছে সেগুলির মধ্যে রয়েছে এনডিটিভি, সিএনএন-নিউজ ১৮ গ্রুপও। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই দুই সংস্থার সিংভাগ মালিকানা রয়েছে আদানি গ্রুপ এবং আম্বানিদের হাতে।
শেয়ার
লিংক



