কুনো জাতীয় উদ্যানে চিতা শাবকের মৃত্যু! শরীরে মিলল একাধিক গুলি

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আবারও শিরোনামে উঠে এল কুনো ন্যাশনাল পার্ক (Kuno National Park)। ‘প্রজেক্ট চিতা’-র অংশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা ১৯ মাস বয়সী একটি চিতা শাবক (Cheetah Cub Killed) রহস্যজনভাবে মারা গেছে। পার্কের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই চিতা শাবকটি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়ে থাকতে পারে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
কুনো ন্যাশনাল পার্কে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত চিতা শাবক!
চিতা পুনঃপ্রবর্তন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মেয়ে চিতা ‘নির্ভা’-কে ভারতে আনা হয়েছিল। ১৯৫২ সালে ভারতে চিতা বিলুপ্ত ঘোষিত হওয়ার পর এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি শুরু করা হয়েছিল। কোয়ারেন্টাইন এবং একটি সফট-রিলিজ এনক্লোজারে রাখার পর, ২০২৩ সালের ২৮শে মে ‘নির্ভা’-কে কুনো জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়, যেখানে সে পরে শাবকদের জন্ম দেয়। সোমবার কুনো পার্কের বাইরে বিজয়পুর বন রেঞ্জের নিতানওয়ান্স বিটে গুরুতর আহত অবস্থায় শাবকটিকে পাওয়া যায়। মঙ্গলবার সকালে অস্ত্রোপচারের সময় এটি মারা যায়। পিসিসিএফ ওয়াইল্ডলাইফ ডঃ সমিতা রাজোরা জানান, আহত অবস্থায় শাবকটিকে পাওয়ার পর করা এক্স-রেতে এর শরীরের বিভিন্ন অংশে বেশ কিছু বহিরাগত বস্তু পাওয়া যায় এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। অপারেশনের সময়েই ওই চিতা শাবকটির মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
আরও পড়ুনঃ ইঞ্জিন বিকল তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসের, হেঁটেই দিঘা স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা যাত্রীদের
কুনো জঙ্গলে মেয়ে চিতাটির যাত্রা সহজ ছিল না। এর আগেও সে দুইবার অনুসরণের সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তার রেডিও-ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বিকল হয়ে যায় এবং ২১শে জুলাই স্যাটেলাইট সংকেতও আসা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সে ২২ দিন নিখোঁজ ছিল এবং তাকে খুঁজে বের করতে ১০০ জনেরও বেশি কর্মী, হাতি, কুকুর দল এবং ড্রোনের সাহায্য নিতে হয়েছিল। যদিও শেষমেষ তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। জানা গিয়েছে, নির্ভার শাবকটির শরীরে পাঁচটি গুলি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একটি ফুসফুসের কাছে ছিল। ফুসফুসের চারপাশের টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিতা শাবকটির মৃত্যু হয় বলে অনুমান।
চিন্তায় পশু প্রেমীরা
এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনায় চিন্তায় ফেলে দিয়েছে পশু প্রেমীদের। কীভাবে এরকম ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। চিতা প্রকল্পটি শুরু হওয়ার পর চার বছরে এটিই প্রথম এমন ঘটনা। এই ঘটনাটি চিতা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গঠন করা হয়েছে। জানলে অবাক হবেন, এই ঘটনা নিয়ে গত এক বছরে মোট ১৪টি চিতা মারা গেছে।
সাতসকালে শিলিগুড়িতে শিক্ষিকাকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা
প্রশ্ন উঠছে, তাহলে চোরাশিকারিদের গুলির ফলে শাবকটির মৃত্যু ঘটেছে? সূত্রের খবর, শাবকটির মৃত্যুর পর, বন বিভাগ চোরাশিকারিদের খুঁজে বের করতে একটি তদন্ত শুরু করেছে। টাস্ক ফোর্স, ডিএফও এবং ডগ স্কোয়াডের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। একটি তদন্তকারী দল আশেপাশের এলাকায় চোরাশিকারিদের কার্যকলাপ খতিয়ে দেখছে এবং ঘটনাটি সম্পর্কিত সম্ভাব্য সূত্র খুঁজছে।



