“অপরাধ করেছে, শাস্তি পেয়েছে” গাইঘাটার এনকাউন্টার নিয়ে বিস্ফোরক অভিযুক্তের মা | Prahlad Das’s mother reacts after the Gaighata encounter, while the victim’s family also shares its views

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) গাইঘাটায় (Gaighata) একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু ঘিরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ভোরে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় ২৩ বছরের ওই যুবকের। পুলিশ সূত্রে দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রহ্লাদকে নিয়ে যাওয়ার সময় সে এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। এই এনকাউন্টার নিয়ে কী বলছেন প্রহ্লাদ দাসের মা?
প্রহ্লাদ দাসের মায়ের বক্তব্য
প্রহ্লাদের মায়ের কথায়, আগের দিনই ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষ দেখা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, তাঁর ছেলে অপরাধী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কালকে ছেলের সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল। পুলিশ বলছে আমার ছেলে অপরাধী। আমি কী বলব? আমার আর কী বলার আছে? আমি তো আমার ছেলেকে চিনতাম। আমি নিজেও বলতে পারব না, ও এরকম একটা কাজ কেন করল। অপরাধ করেছে, শাস্তি পেয়েছে। শুনলাম, ও পুলিশের রিভলভার নিয়ে গুলি চালিয়েছে, ওকেও এনকাউন্টার করে দিয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমি খুশি। আমার ছেলের শাস্তি প্রাপ্য ছিল, পেয়েছে।” ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তার পরিণতি নিয়ে মায়ের এই বক্তব্য সামনে এসেছে।
নির্যাতিতার মায়ের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা নিয়েই প্রহ্লাদের মৃত্যুর খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নির্যাতিতার মা। তাঁর দাবি, প্রহ্লাদ তাঁদের পরিচিত ছিল। আত্মীয়তার সূত্রে বাড়িতে তার যাতায়াতও ছিল। কিন্তু সে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। মেয়েকে আর ফিরে পাবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে তো আর ফিরে পাব না। আমার কোল যেমন শূন্য করে নিয়ে গিয়েছে, ওদের কোলও যেন শূন্য হয়ে যায়। সেটাই চেয়েছিলাম। সেটাই হয়েছে। পুলিশের কাজে খুশি।” তাঁর বক্তব্যে মেয়েকে হারানোর গভীর যন্ত্রণার পাশাপাশি অভিযুক্তের শাস্তি চাওয়ার কথাও উঠে এসেছে।
ফের এনকাউন্টার বাংলায়, ধুলিয়ানে খুনের আসামিকে গুলি করে খতম করল সিআইডি
নির্যাতিতার বাবাও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, “আমার মেয়েকে তো আর ফেরত পাব না। সরকারের নির্দেশে পুলিশ ভালো করেছে।” তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেছিল এবং পুলিশকে গুলি চালিয়েছিল বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। অন্যদিকে, প্রহ্লাদের ভাই ধ্রুব দাসের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন সুর। তাঁর দাবি, ঘটনার আগের রাতে দাদা বাড়িতেই ঘুমিয়েছিলেন। পরিবারের বক্তব্য, প্রহ্লাদ এমন অপরাধ করতে পারে, তা তাঁরা বিশ্বাস করতে পারছেন না। ফলে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্যাতিতার পরিবার ও অভিযুক্তের পরিবারের প্রতিক্রিয়ায় পার্থক্য স্পষ্ট।
বাংলাদেশে পড়তে গিয়ে আব্দুলের সাথে প্রেম, বিয়ের পর নির্যাতিত! থানায় বারাসতের অমৃতা
এদিকে, আরজি করের নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথও গাইঘাটার ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এমন জঘন্য কাজ যারা করে, তাদের বাঁচিয়ে রেখে লাভ কী? এনকাউন্টারই এদের জন্য ঠিক। আমি চাই, আমার মেয়ের অপরাধীদেরও এই পরিণতি হোক। যত এরকম হবে, তত ওরা ভয় পাবে।”



