0%

নেতানিয়াহু হারলে থামবে ইরান যুদ্ধ? গণতন্ত্রের উৎসবে আজই সিদ্ধান্ত নেবে ইজরায়েলের জনতা

যুদ্ধের মাঝপথেই নির্বাচনের মুখে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। মঙ্গলবার ইজরায়েলের ৭৩ লক্ষ নাগরিক সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্পের প্রিয় বেবি, না কি অন্য কেউ হবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। এই নির্বাচনের ফলাফলের উপর বহুলাংশে নির্ভর করছে কোন পথে এগোবে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি? থামবে কি ইরান যুদ্ধ? গাজায় ইজরায়েলের হামলার পর দেশের প্রথম নির্বাচনের প্রচারে কোনও খামতি রাখেননি নেতানিয়াহু। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলের জনতার কাছে আর্জি জানিয়েছেন তাঁকে ফের নির্বাচিত করার জন্য।

রিপোর্ট বলছে, মঙ্গলবার ইজরায়েলে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই নির্বাচনে বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। কোনও শিবিরই একা ৬১টি আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারবে না। সেক্ষেত্রে নেতানিয়াহু শিবির ৪৯-৫৩ আসন, বিরোধী শিবির ৫০-৫৪ আসনে আটকে থাকতে পারে। ফলে ছোট দল ও আরব দলগুলির ১২টি আসনই সরকার গঠনে নির্ণায়ক হবে। এবারের নির্বাচনের মূল ইস্যু হয়ে উঠেছে, যুদ্ধ ও নিরাপত্তা, কট্টর ইহুদিদের সেনায় ছাড়, বিচারবিভাগীয় সংস্কার এবং যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ। নির্বাচনের ফল শুধু ইজরায়েল নয়, ইরান-যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়কেও প্রভাবিত করবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। পাশাপাশি এই নির্বাচনে নেতানিয়াহুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে, প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে। যিনি গত বছরই দল গড়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন।

নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, একমাত্র তিনিই আমেরিকাকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করতে পারেন। সুতরাং, এই কাজটি সম্পন্ন করতে হলে তার পুনঃনির্বাচন প্রয়োজন।

নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, একমাত্র তিনিই আমেরিকাকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করতে পারেন। সুতরাং, এই কাজটি সম্পন্ন করতে হলে তার পুনঃনির্বাচন প্রয়োজন। ট্রাম্পের মুখেও শোনা গিয়েছে একই কথা। তিনি বলেন, ‘ইজরায়েলের ভোটারদের উচিত নেতানিয়াহুর হাত শক্ত করা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফের বিবিকে ভোট দিন। কারণ আমরা যে কাজ শুরু করেছি, তা আমাদের একসঙ্গে শেষ করতে হবে।’ এমনকী অন্য কেউ ক্ষমতায় এলে ইজরায়েলের সঙ্গে কাজ করবেন না বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

তবে রিপোর্ট বলছে, ইজরায়েলের আভ্যন্তরীণ অঙ্কটা কিছুটা আলাদা। আমেরিকার সঙ্গে মিলে ইজরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালালেও অল্পদিনেই যুদ্ধ থেকে সরে আসে। নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক নিয়ে মতবিরোধের জেরে আমেরিকার উপর অসন্তুষ্ট ইজরায়েল। ফলস্বরূপ ইরান যুদ্ধ থেকে সরে এসেছে তারা। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনের আগে ইরানে ফের হামলার পরিকল্পনা করেছিল ইজরায়েল। তবে আমেরিকা প্রস্তুত না থাকায় তা হয়নি। যদিও ইজরায়েলের জনগণ চান না দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়াতে। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে যুদ্ধের বিষয়ে হয়ত বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করবেন তিনি। যদিও, এটা কখনই বলা যায় না যে ইজরায়েলের পুরোপুরি যুদ্ধের বাইরে চলে আসবে। কিন্তু হ্যাঁ নতুন সরকার যুদ্ধের জন্য নিজের মতো করে সময় নির্ধারণ করবে।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker