টোল প্লাজার ২০ কিমির মধ্যে বসবাসকারীদের জন্য সুখবর! কত টাকায় মিলবে অ্যানুয়েল কনসেশন পাস?

সবদিক নিউজ:টোল প্লাজার (Toll Plaza) আশপাশে বসবাস করেন? তা হলে গাড়ি নিয়ে নিয়মিত যাতায়াতের খরচ কমানোর সুযোগ আসতে চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ফাস্টট্যাগ (FASTag)বার্ষিক পাসের নিয়মে সংশোধন এনেছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক (MoRTH)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে টোল প্লাজার ২০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকেরা তুলনামূলক কম খরচে বার্ষিক পাস পেতে পারবেন। টোলের খরচ কমিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সাশ্রয়ী করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন ব্যবস্থায় টোল প্লাজার অবস্থান অনুযায়ী বার্ষিক পাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৫০০ টাকা অথবা ৩,০০০ টাকা। ফলে যাঁদের প্রতিদিন কাজের প্রয়োজনে বা অন্য কারণে টোল প্লাজা পার হতে হয়, তাঁদের পকেটে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে।
টোল প্লাজার (Toll Plaza) কাছাকাছি বসবাসকারীদের কত টাকায় মিলবে অ্যানুয়েল কনসেশন পাস?
নতুন নিয়মে পৌরসভা বা শহরের সীমানার বাইরে অবস্থিত টোল প্লাজার ক্ষেত্রে বার্ষিক পাসের জন্য দিতে হবে ১,৫০০ টাকা। অন্যদিকে, পৌরসভা বা শহরের সীমানার মধ্যে থাকা টোল প্লাজার জন্য বার্ষিক পাসের দাম ধার্য করা হয়েছে ৩,০০০ টাকা। বর্তমানে স্থানীয় টোল প্লাজার মাসিক পাসের জন্য অনেক ক্ষেত্রে ৩৬০ টাকা খরচ করতে হয়। সেই হিসাবে এক বছরে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৪,৩২০ টাকা। নতুন ব্যবস্থায় ১,৫০০ টাকার পাস পাওয়া গেলে বছরে সর্বোচ্চ ২,৮২০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। আর ৩,০০০ টাকার বার্ষিক পাসের ক্ষেত্রেও পুরনো মাসিক পাসের তুলনায় ১,৩২০ টাকা কম খরচ হবে। তবে প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট টোল প্লাজায় (Toll Plaza) কোন ধরনের পাস প্রযোজ্য, তার উপর।
১০,০০০ কোটির ক্ষতির আশঙ্কা! রাহুলের বিক্ষোভ কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য চিঠি ব্যবসায়ীদের
তবে এই সুবিধা দেশের সমস্ত গাড়ির মালিকের জন্য নয়। মন্ত্রকের সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, বার্ষিক পাসটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নিবন্ধিত গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এই সুবিধার আওতায় পড়বে না। পাশাপাশি, গাড়িতে সক্রিয় ফাস্টট্যাগ থাকা বাধ্যতামূলক। ফাস্টট্যাগ নিষ্ক্রিয় থাকলে বা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হলে বার্ষিক পাস পাওয়া যাবে না। তাই আবেদন করার আগে গাড়ির নিবন্ধন এবং ফাস্টট্যাগের বৈধতা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। শুধু টোল প্লাজার কাছাকাছি বসবাস করলেই যে এই পাস পাওয়া যাবে, তা নয়; সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য নির্ধারিত অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।
বার্ষিক পাস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা। এই পাস যে টোল প্লাজার জন্য ইস্যু করা হবে, সেটি কেবল সেখানেই ব্যবহার করা যাবে। অন্য কোনও টোল প্লাজায় গিয়ে এই পাস দেখিয়ে ছাড় পাওয়া যাবে না। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল, সংশ্লিষ্ট টোল প্লাজার কাছাকাছি সার্ভিস রোড বা বিকল্প যাতায়াতের পথ থাকা চলবে না। এমন কোনও রাস্তা থাকলে সেই এলাকার বাসিন্দারা এই বিশেষ বার্ষিক পাসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। অর্থাৎ, টোল প্লাজার ২০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বাড়ি থাকাই যথেষ্ট নয়; ওই এলাকার রাস্তার পরিকাঠামোও পাস পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ফলে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট টোল প্লাজার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নেওয়া দরকার।

একের পর এক iPhone Duo-র স্ক্রিনে ‘ক্র্যাক’-এর অভিযোগ! বড় সিদ্ধান্ত Apple-এর
এ ছাড়াও, এক্সপ্রেসওয়ে বা জাতীয় সড়কে যেখানে ক্লোজড ইউজার ফি সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু রয়েছে, সেখানে এই বার্ষিক পাস প্রযোজ্য হবে না। এই ব্যবস্থায় গাড়ি কোথা দিয়ে সড়কে প্রবেশ করছে এবং কোথা দিয়ে বেরোচ্ছে, তার ভিত্তিতে টোল নির্ধারিত হয়। তাই ওই ধরনের সড়কে নতুন পাসের সুবিধা মিলবে না। মন্ত্রকের নিয়ম অনুযায়ী, বার্ষিক পাসের মূল্য প্রতি বছর ১ এপ্রিল সংশোধন করা হবে। একই সঙ্গে যোগ্য গাড়ির মালিকেরা চাইলে আগের মতো মাসিক ৩৬০ টাকার পাস ব্যবহার করতে পারবেন, অথবা নতুন বার্ষিক পাস বেছে নিতে পারবেন। অর্থাৎ, যাঁরা নিয়মিত একই টোল প্লাজা দিয়ে যাতায়াত করেন, তাঁদের কাছে নতুন ব্যবস্থা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে পাস কেনার আগে নিজের গাড়ি, বসবাসের এলাকা এবং সংশ্লিষ্ট টোল প্লাজার (Toll Plaza) শর্তগুলি মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।




