সৌদির পাশে দাঁড়ানোই হল কাল! মিশরের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করল হাউথিরা

সবদিক নিউজ: সৌদি আরবের (Saudi Arabia) পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে এবার মিশরের (Egypt) সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ইয়েমেনের হাউথি (Houthi) বিদ্রোহীদের। সৌদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিশরীয় সেনা মোতায়েনের উদ্যোগকে সরাসরি যুদ্ধের প্ররোচনা হিসেবে দেখছে হাউথি গোষ্ঠী। তাদের এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় মিশরের সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণারই সামিল। এই পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ফলে সৌদি আরব ও হাউথিদের মধ্যে চলতে থাকা সংঘাতের আঁচ এবার অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও মিশরের বিরুদ্ধে হাউথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে পরিস্থিতি যে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।
সৌদিকে সাহায্য করায় মিশরের (Egypt) বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করল হুথিহাউথিরা
গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে হাউথি বিদ্রোহীদের সংঘাত চলছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যপথের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাব-আল মান্দেব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই প্রণালী দিয়ে বহু বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করে। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত বাড়লে শুধু সৌদি আরব বা ইয়েমেন নয়, বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও সমস্যায় পড়তে পারে। যদিও প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ হাউথিদের হাতে চলে গিয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করা জরুরি। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে বলে খবর (Egypt)।
ই২০ নিয়ে প্রতিবাদ আসলে ‘পেড ক্যাম্পেন’! বিকল্প জ্বালানি বিতর্কে বিস্ফোরক দাবি নিতীন গডকরীর
সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর প্রশ্নে ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ও তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার সেই তালিকায় মিশরের নামও উঠে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব নিয়ে সে দেশের পার্লামেন্টে পদক্ষেপ করা হয়েছে। দ্রুত সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে সেনা মোতায়েনের চূড়ান্ত অনুমোদন, বাহিনীর সংখ্যা এবং তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট নয়। মিশরের এই উদ্যোগের পিছনে কেবল সৌদি আরবের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই নয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সৌদি আরবে অস্থিরতা বাড়লে তার প্রভাব জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি।
হাউথিদের বক্তব্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যখন আলোচনা এগোনোর কথা, তখন সৌদি আরবের পাশে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হবে এবং সেই অনুযায়ী জবাব দেওয়া হবে। তবে হাউথিদের এই বক্তব্যকে মিশরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য ধরে নেওয়ার আগে তাদের নির্দিষ্ট বিবৃতি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ, সামরিক হুঁশিয়ারি এবং আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। এই ধরনের বক্তব্যের জেরে ভুল বোঝাবুঝি বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। বিশেষ করে, একাধিক দেশ যদি সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ে, তা হলে সংঘাতের পরিধি আরও বাড়তে পারে।

টোল প্লাজার ২০ কিমির মধ্যে বসবাসকারীদের জন্য সুখবর! কত টাকায় মিলবে অ্যানুয়েল কনসেশন পাস?
সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্কের সম্পর্ক এবং মিশরের সঙ্গে রিয়াধের ঘনিষ্ঠতা এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার প্রভাব আঞ্চলিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের উপর পড়তে পারে। সেই কারণেই সৌদির পাশে দাঁড়ানোর প্রশ্নে বিভিন্ন দেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং তাদের মধ্যে কোনও যৌথ সামরিক পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। আপাতত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সৌদি আরব ও হাউথিদের সংঘাত কি আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে, নাকি নতুন দেশগুলির সম্পৃক্ততায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে? মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে আগামী দিনে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে (Egypt)।




