‘নেতাজিকে খাটো করা হচ্ছে’, ‘ফৌজি’-র টিজার নিয়ে সরব নাতি চন্দ্রকুমার বসু

প্রভাস অভিনীত ‘ফৌজি’ ছবির টিজার প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ইতিহাসের উপস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ বার সেই বিতর্কে সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়ে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি লিখলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্রকুমার বসু। তাঁর অভিযোগ, ছবির ঝলকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা নেতাজির অবদানকে খাটো করতে পারে। তাই বিতর্কিত টিজারটি প্রত্যাহার করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পদক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। ছবির পরিচালক হনু রাঘবপুড়িকেও বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করার বার্তা দিয়েছেন চন্দ্রকুমার।
‘৭-৮ বছর আগেই আঁচ করেছিলাম…’, স্ত্রীকে কে প্রভাবিত করছে? ‘অন্য খেলা’র ইঙ্গিত গোবিন্দার
মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে নিজের চিঠিটি প্রকাশ করেন চন্দ্রকুমার বসু। নেতাজির পরিবারের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন সমাজ-রাজনৈতিক কর্মী এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন সহ-সভাপতি। তাঁর আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে ‘ফৌজি’-র টিজারে নেতাজির চরিত্রের উপস্থাপনা। গত ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত হয়েছিল ছবিটির টিজার। ঘটনাচক্রে, ওই দিনই ছিল বিপ্লবী ভগবতীচরণ পাণিগ্রাহীর ৮৩তম বলিদান দিবস। নেতাজির সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই বিপ্লবীর স্মরণদিবসে টিজার প্রকাশের বিষয়টিও বিতর্কের আবহে বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে।
চন্দ্রকুমারের বক্তব্য অনুযায়ী, ছবির ঝলকে নেতাজিকে জার্মানির শাসক অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে কথোপকথনে দেখা গিয়েছে। সেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে ‘ফৌজি’ নামে একটি কাল্পনিক চরিত্রের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক। চন্দ্রকুমারের দাবি, এমন এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে কাহিনি নির্মাণের ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা এবং তাঁর ভূমিকার মর্যাদা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর প্রয়াত বিপি সিংহ, থামল ‘সিআইডি’-র স্রষ্টার পথচলা
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে চন্দ্রকুমার জানিয়েছেন, টিজারে নেতাজির উপস্থাপনা নিয়ে তাঁরা তীব্র আপত্তি জানাচ্ছেন। তাঁর প্রশ্ন, এমন বিষয়বস্তু কীভাবে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেল? বিষয়টি খতিয়ে দেখে টিজার প্রত্যাহার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত কোনও ছবিতে এমন উপস্থাপনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও সমাজমাধ্যমে ট্যাগ করে টিজারটি সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন চন্দ্রকুমার। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে নতুন করে ঝলক প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রভাস এবং ছবির গোটা দলের প্রতি শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি। তবে পরিচালক হনু রাঘবপুড়িকে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন।
ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে ভাবাবিষ্ট সব্যসাচী, নতুন ছবির আগে মায়ের চরণে প্রার্থনা অভিনেতার
টিজারের একটি দৃশ্যে ১৯৪২ সালের বার্লিনকে দেখানো হয়েছে। সেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতার লড়াইয়ে হিটলারের সমর্থন চাইছেন নেতাজি। হিটলার ভারতীয়দের শাসিত হওয়ার অভ্যাস রয়েছে বলে মন্তব্য করলে নেতাজি জাপানের হয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক ভারতীয় গুপ্তচরের ভূমিকার প্রসঙ্গ তোলেন। সেই কাহিনির মাধ্যমে সিঙ্গাপুর দখলের ঘটনাও উঠে আসে। এই দৃশ্যগুলির ঐতিহাসিক যথার্থতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। ‘ফৌজি’ নির্মাতাদের তরফে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া এলে বিতর্ক কোন দিকে এগোয়, সে দিকেই নজর থাকবে।



