0%

১ নভেম্বর থেকে মাত্র ১,৫০০ টাকায় চালু হচ্ছে বার্ষিক টোল পাস, কারা যোগ্য?

অনন্যা সরকার, নয়া দিল্লি: আগামী মাসের শুরুতেই দেশজুড়ে ন্যাশনাল হাইওয়েগুলোতে নিয়মিত যাতায়াতকারী মোটরচালকদের জন্য ফাস্টট্যাগ (FASTag) সম্পর্কিত নিয়মে একটি গুরুত্বপূর্ণ বদল আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ১ নভেম্বর থেকে, সরকার জাতীয় মহাসড়কের টোল প্লাজার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের জন্য একটি ছাড়যুক্ত বার্ষিক টোল পাস (Annual Toll Pass) চালু করতে চলেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ন্যাশনাল হাইওয়ের টোল প্লাজার কাছাকাছি বসবাসকারী যোগ্য ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা প্রতিটি যাত্রার জন্য আলাদা টোল চার্জ দেওয়ার বদলে একটি বার্ষিক ফি-এর বিনিময়ে স্থানীয় টোল পাসটি কিনতে পারবেন।

বার্ষিক টোল পাস চালু স্থানীয়দের জন্য

ওই টোল পাসটির মূল্য নির্ভর করবে টোল প্লাজার অবস্থানের ওপর। যদি টোল প্লাজাটি পৌরসভা বা স্থানীয় শহরের সীমানার বাইরে অবস্থিত হয়, তবে বার্ষিক ফি হবে ১,৫০০ টাকা, আর যদি এটি পুরসভা বা শহরের সীমানার ভেতরে হয়, তবে ফি হবে ৩,০০০ টাকা। অর্থাৎ, মাসিক খরচ হবে যথাক্রমে ১২৫ টাকা বা ২৫০ টাকা। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ‘জাতীয় মহাসড়ক ফি (হার নির্ধারণ ও সংগ্রহ) (পঞ্চম সংশোধনী) বিধিমালা, ২০২৬’-এর অধীনে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। মনে করা হচ্ছে যে, সরকার প্রতি বছর ১ এপ্রিল (অর্থবর্ষ হিসেবে) থেকে কার্যকর হওয়ার মতো করে এই ফি পুনর্নির্ধারণ করতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, একটি নির্দিষ্ট টোল প্লাজার জন্য ইস্যু করা পাস অন্য কোনো টোল প্লাজায় ব্যবহার করা যাবে না।

এই পাসটি কেবল ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রেজিস্টার্ড যানবাহনের মালিকরাই পেতে পারেন। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট টোল প্লাজার ২০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাস করতে হবে এবং তাদের যানবাহনে একটি বৈধ ও সক্রিয় ‘ফাস্টট্যাগ’ থাকতে হবে। তবে জানিয়ে রাখি, সব ক্ষেত্রে এই পাস পাওয়া যাবে না। যেসব স্থানে সার্ভিস রোড বা বিকল্প যাতায়াতের পথ রয়েছে, সেইসব জায়গায় এই পাস দেওয়া হবে না। এছাড়া, যেসব ন্যাশনাল হাইওয়ে বা এক্সপ্রেসওয়েতে ইতিমধ্যেই ‘ক্লোজড-ইউজার’ (closed-user) ফি সংগ্রহ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, সেগুলোও এই সুবিধার আওতায় পড়বে না।

আরও পড়ুন: মালদায় গাছে উঠে ফেঁসে গেল নারকেল চোর, নামাতে দমকল ও পুলিশ ডাকল বন বিভাগ

জানিয়ে রাখি, বর্তমানে একটি মান্থলি পাসের খরচ ৩৬০ টাকা, যার ফলে বছরে মোট ৪,৩২০ টাকা ব্যয় হয়। এর তুলনায়, নতুন অ্যানুয়াল পাসের খরচ ১,৫০০ টাকা বা ৩,০০০ টাকা। ফলে, যেসব স্থানীয় গাড়িচালক নিয়মিত একই টোল প্লাজা ব্যবহার করেন, তারা টোল ট্যাক্সে উল্লেখযোগ্য ছাড় পাবেন। তবে প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে ব্যক্তিটির পাস পাওয়ার যোগ্যতা এবং তিনি কোন টোল প্লাজা ব্যবহার করছেন তার ওপর।

আরও পড়ুন: আধার লিঙ্ক করালে কী ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে? জানাল UIDAI

এই বার্ষিক লোকাল পাসগুলো ১লা নভেম্বর, থেকে সংশ্লিষ্ট টোল প্লাজাগুলোতে পাওয়া যাবে। এছাড়া ১ ডিসেম্বর থেকে ‘রাজমার্গযাত্রা’ (Rajmargyatra) মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও এগুলো সংগ্রহ করা যাবে। তবে মনে রাখবেন, এটি সাধারণ বার্ষিক ফাস্টট্যাগ পাস থেকে  একেবারে আলাদা। একটি সাধারণ বার্ষিক পাস সারা দেশের ন্যাশনাল হাইওয়েগুলোতে এক বছর অথবা সর্বোচ্চ ২০০ বার টোল দিয়ে পারাপারের জন্য কার্যকর, অন্যদিকে, নতুন স্থানীয় পাসটি কেবল একটি নির্দিষ্ট টোল প্লাজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker