‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে…’ মুইজ্জুর পাক-প্রীতিতে ক্ষুব্ধ মালদ্বীপের বিরোধী শক্তি

দিল্লিকে পাশ কাটিকে পাকিস্তানের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে শুরু করেছে মালদ্বীপ। আর তারপরই দ্বীপরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করল সেদেশের বিরোধী শক্তি। তাদের আশঙ্কা, পাকিস্তানের দিকে বেশি ঝুঁকলে মালদ্বীপের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে ভারতের। ফলে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বিপণ্ণ হতে পারে দেশটি।
মালদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নাশিদ-সহ বিরোধী নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক মালদ্বীপের প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে। মুইজ্জু সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানালেও, সমালোচকরা সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে মালদ্বীপ ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা এই ছোট দ্বীপরাষ্ট্রটির নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
নাশিদকে বলতে শোনা গিয়েছে, ”ছোট দেশগুলি, বিশেষ করে মালদ্বীপের সামনে থাকা ঝুঁকিগুলো যখন অত্যন্ত গুরুতর, তখন প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু যথাযথ বিবেচনা ছাড়াই পাকিস্তানে সফর করলেন। এর ফলে মালদ্বীপ আবারও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে বিরোধ, তার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এল। ভারত যদি মনে করে যে তাদের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হচ্ছে, তাহলে মালদ্বীপকে এর জন্য এর খুব তিক্ত প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হতে পারে।”
উল্লেখ্য, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের সফরে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু। এই সফরে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পাশাপাশি সেনাপ্রধান আসিম মুনির, উপপ্রধানমন্ত্রী ইশক দার-সহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এমনকী সেখানকার এক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে ডক্টরেট উপাধিও নেন এই নেতা।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই সফরে ২০টি চুক্তি সই করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহায়তা, পুলিশি ব্যবস্থা, সমুদ্র নিরাপত্তা ও বাণিজ্য। আর তারপর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। পাকিস্তানের সঙ্গে মালদ্বীপের এই ঘনিষ্ঠতা প্রশ্ন তুলছে, ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্র ইসলামাবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে না তো? যদি তাই হয় সেক্ষেত্রে নয়াদিল্লির জন্য এর অর্থ কী দাঁড়াবে? আপাতত এই আলোচনাতেই মশগুল ওয়াকিবহাল মহল।
শেয়ার
লিংক



