0%

“ও ভালো ছাত্র, রোজ রাতে গীতা পড়ত” সন্তান হারিয়ে আবেগঘন মন্তব্য প্রহ্লাদের মায়ের | Gaighata Encounter Mother on Media

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গাইঘাটার (Gaighata) নাবালিকা ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয়েছে পুলিশি এনকাউন্টারে। একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে পরে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করাতে নিয়ে গেলে সেখানেই পুলিশের রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত। পাল্টা পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে চিকিৎসক। তবে ছেলের মৃত্যুতে ভারাক্রান্ত হয়ে এবার বড় মন্তব্য করলেন প্রহ্লাদের মা।

ছেলেকে নিয়ে বড় মন্তব্য প্রহ্লাদের মায়ের

প্রহ্লাদকে পুলিশ এনকাউন্টার করেছে ভালো করেছে, এমনটাই প্রথমে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সন্তান হারানোর কষ্ট বুকে নিয়ে তিনি বলেন যে মৃত্যুদন্ড চাননি। প্রহ্লাদ ভালো ছাত্র ছিল। ঠাকুর-দেবতায় ভক্তি ছিল। পুলিশে চাকরি করার ইচ্ছে ছিল তাঁর। অভিযুক্তের মায়ের কথায়, “ও ভালো ছাত্র ছিল। কম্পিউটারে সবকিছু পারত। রোজ রাতে ও গীতা পড়ত। ঠাকুর দেবতা নিয়ে আমাদের কত কথা শোনাত। আমি আর পারছি না এভাবে থাকতে।”

ধানক্ষেতে উদ্ধার প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীর গলা কাটা দেহ

প্রহ্লাদের মা আরও বলেন, “আমি চেয়েছিলাম ওর সাজা হোক। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড চাইনি। তবু বলতে পারতাম যে আমার ছেলে বেঁচে রয়েছে।” এমনকি কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযুক্তের মা জানান যে ছেলে চেয়েছিল বড় হয়ে পুলিশের চাকরি করতে। পুলিশকে সে খুব শ্রদ্ধা করত। কিন্তু ছেলের এমন পরিণতি কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে ধৃত প্রহ্লাদ দাসকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেখান থেকেই ফেরার পথে এক পুলিশ আধিকারিকের রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ পাল্টা গুলি চালাতেই গুলিবিদ্ধ হয় প্রহ্লাদ। পরে তাঁকে চাঁদপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সেখানে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

জমি দুর্নীতির পর এবার মাটি চুরির অভিযোগ, শোন অ্যারেস্ট অভিষেকের পিএ সুমিত রায়

উল্লেখ্য, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সকালে গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। শনিবার রাতে বান্ধবীর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে বাড়ি ফেরেনি সে। পরদিন সকালে এক আত্মীয়ের বাড়ির পিছনে শৌচাগারের কাছ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলেই অভিযোগ তোলে পরিবার। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেয় গাইঘাটা থানার পুলিশ।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker