0%

এক ধাক্কায় ৯৩ শতাংশ কমল ক্যানসারের ওষুধের দাম! সুপ্রিম তোপের পরেই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

১১ হাজার টাকার ওষুধ বিকোচ্ছে ১.৩০ লক্ষ টাকায়! মঙ্গলবার সকালে জীবনদায়ী ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত দাম নিয়ে ওষুধ সংস্থা, হাসপাতাল এবং কেন্দ্রকে একযোগে তোপ দেগেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তাতেই কী কাজ হল? ভারতের ওষুধ মূল্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি’ (এনপিপিএ) ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৩৭টি গোত্রের ৫৪৩টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) সংশোধন করল। এর ফলে জীবনদায়ী ওষুধগুলির মূল্য এক ধাক্কায় ৯০ শতাংশেরও বেশি কমে গেল! সূত্রের খবর, আগামী ৯ নভেম্বর থেকে সংশোধিত দাম কার্যকর হবে।

এনপিপিএ প্রকাশিত সংশোধিত তালিকায় স্তন ক্যান্সারের কিছু নির্দিষ্ট ধরনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ‘পালবোসিক্লিব’-র একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও প্যাকের দাম ৪০,৪২১ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২,৭২০ টাকা। দাম কমেছে প্রায় ৯৩.৩ শতাংশ। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যানাস্ট্রোজল ‘ওয়োমাজলে’র দামও ৪৫৮ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৯ টাকা ৫২ পয়সা।

যদিও ইমিউনোথেরাপির ওষুধ ‘কিট্র‌ুডা’র (পেমব্রোলিজুম্যাব গোত্রের ওষুধ) দামে কোনও হেরফের ঘটেনি। এই ওষুধের দাম ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। যা অপরিবর্তিত রয়েছে। ২১ ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘ক্রিক্সানা’র (রিবোসিক্লিব) দামও রয়েছে একই— ২৪ হাজার ৪৩৫ টাকা। ‘ট্যাগ্রিসো’, ‘টেসেনট্রিক’, ‘ডারজ়ালেক্স’ এবং ‘ইমফিনজি’র মতো ওষুধের এমআরপিতেও কোনও হেরফের হয়নি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সংশোধিত তালিকায় বহুজাতিক সংস্থাগুলির বহু ওষুধের নাম নেই বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। ১৩৭টি নন-শিডিউলড ক্যানসাররোধী ওষুধের ক্ষেত্রে বিক্রির মার্জিন (এমআরপি)-র সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনপিপিএ। সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সংশোধিত মূল্য ৯ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

চিকিৎসায় নামে রোগীর পরিবারগুলিকে লুট করার অভিযোগ বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে নতুন কিছু নয়। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত এক মামলার শুনানি চলছিল সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে। সেখানে একটি ঘটনা সামনে আসে। যেখানে এক ওষুধ ব্যবসায়ীর স্ত্রী এক নামী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসায় একটি ইনজেকশনের দাম হাসপাতালের তরফে ধার্য করা হয় ১.৩০ লক্ষ টাকা। অথচ এই ইনজেকশনের ডিলার মূল্য ছিল ১১ হাজার টাকা। ওই ব্যবসায়ী ওষুধটি বাইরে থেকে এনে দেওয়ার কথা বললেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাইরে থেকে ওষুধ আনতে নিষেধ করেন এবং ১.৩০ লক্ষ টাকা বিল করেন।

এই ঘটনায় কেন্দ্রকে একহাত নেয় সুপ্রিম বেঞ্চ। কেন্দ্রের উদ্দেশে আদালতের প্রশ্ন, ‘এই ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা কি মেনে নেওয়া যায়? ঘটনার কোনও যুক্তি দেখাতে পারেন? এই টাকা কোথায় যাচ্ছে?’ ওষুধের মূল্য সংক্রান্ত দুটি মামলার শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালত ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (এনপিপিএ)-এর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটিকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বলে মনে হচ্ছে। আদালত আরও বলে, কেন্দ্র নিজের হলফনামাতেই জানিয়েছে, ক্যানসারের ওষুধে হাসপাতালগুলি ১৭০ থেকে ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত ও অন্যন্য সামগ্রীতে ১০০ থেকে ১০০০ শতাংশ পর্যন্ত লাভ করছে। ১১ থেকে ১৫ টাকার স্যালাইনে রোগীর থেকে নেওয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা। একটি কার্ডিয়াক সেন্টের দাম ৫০০০ টাকা হলেও হাসপাতাল ২৫০০০-এর বেশি দাম নিচ্ছে।

যদিও এই ঘটনায় হাসপাতালের পক্ষের আইনজীবী মুকুল রোহতগি বলেন, ওষুধের গুণমান বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা। তবে আদালত সেই যুক্তি মানতে নারাজ। কেন্দ্রের যুক্তি, ওষুধের দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরকারের মতে, এই ব্যবসায় পর্যাপ্ত মুনাফা প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। পালটা আদালত জানায়, ড্রাগ প্রাইস কন্ট্রোল অর্ডার (ডিপিসিও)-এর আওতাভুক্ত ওষুধ যদি রোগীদের কাছে না পৌঁছায়, তবে সেগুলি সহজলভ্য করার দায়িত্ব সরকারের। এই মামলায় রায় সংরক্ষিত রেখেছে শীর্ষ আদালত।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker