অর্ণবের ধাক্কায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, কেন্দ্রের সাহায্য চাইলেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী, কতটা প্রভাব বাংলায়?

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের ধাক্কায় রীতিমতো বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশ। সেরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নায়ডু জানিয়েছেন, অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঝড়ের তাণ্ডবে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের খেতে। বহু বাড়িও ভেঙে পড়েছে। এছাড়া ভেঙেছে গাছ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের খুঁটি। সবমিলিয়ে বেশ কয়েকটি জেলায় প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু জায়গাতেই এখনও নেই বিদ্যুৎ সংযোগ।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে ল্যান্ডফল হয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের। ৬ ঘণ্টা ধরে চলেছে ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল কাকিনাদা ও পুদুচেরির ইয়ানামের মধ্যবর্তী অঞ্চলে এর ল্যান্ডফল হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রাথমিকভাবে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে সংখ্যাটা বেড়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে। বিপর্যয় মোকাবিলায় চেয়েছেন কেন্দ্রীয় সাহায্যও। ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন চন্দ্রবাবু।
জানা গিয়েছে, অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনাই ঘটেছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে। কারোর মাথার উপর ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের পোল। কেউ বা ভুলবশত ভেঙে পড়া পোলের তারে পা দিয়ে ফেলেছিলেন। এছাড়াও বাড়ি ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে কয়েকজনের। প্রাথমিকভাবে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ২০০টি বাড়ি ভেঙে পড়েছে। প্রায় ৭১ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে ঝড়ের ফলে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের জন্যও হেক্টরপিছু ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা সাহায্য়ের ঘোষণা করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার।
বুধবার সকালে অর্ণব স্থলভাগে ঢুকতেই কমছে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি। অতি তীব্র থেকে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্র ও ওড়িশার কয়েকটি অংশে রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। অর্ণবের পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে বাংলাতেও। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বৃষ্টি হচ্ছে। সঙ্গে চলছে ঝোড়ো হাওয়া। দার্জিলিং ও সিকিমে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রয়েছে ভূমিধসের আশঙ্কাও। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে ২৭ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২২টি এক্সপ্রেস ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।
শেয়ার
লিংক



