ইজরায়েল এখন ‘রাম ভরোসে’, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই, কী করবেন নেতানিয়াহু-আইজেনকোট?

আগামী দিনে ইজরায়েল কোন পথে যাবে? ভোট গণনার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও তা স্পষ্ট নয়। প্রায় ৯১ শতাংশ ভোট গণনা হয়ে গিয়েছে, তবু বোঝা যাচ্ছে না প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কুর্সি ধরে রাখতে পারবেন কিনা। আবার বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোটের হাতেও ক্ষমতা যাবে কিনা বোঝা মুশকিল। এহেন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইজরায়েল এখন ‘রাম ভরোসে’। আগামী দিনে কার হাতে যাবে ইজরায়েলের রাশ, সেটা অনেকটাই নির্ভর করবে এই রামের উপর।
ইজরায়েলের রাজনীতিতে রাম কীভাবে এতখানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল? আসলে এই রাম হল ইজরায়েলের একটি রাজনৈতিক দল, যার পোশাকি নাম ইউনাইটেড আরব লিস্ট। ইসলাম ঘেঁষা দলটি ইজরায়েলের ‘আরব পার্টিসে’র মধ্যেই পড়ে। আপাতত নির্বাচনের যা ফলাফল, তাতে দেখা যাচ্ছে রামের দখলে গিয়েছে আটটি আসন। আরেক আরব দল জয়েন্ট লিস্টের ঝুলিতে ১১টি আসন। সবমিলিয়ে ১৯টি আসন জিততে চলেছে আরব দলগুলি। শেষ পর্যন্ত তারাই হয়ে উঠতে পারে ইজরায়েলের কিংমেকার।
১২০ আসনের কেনেসেটে সরকার গড়তে চাই ৬১টি আসন। কিন্তু নেতানিয়াহুর জোট বা বিরোধী জোট এই ম্যাজিক ফিগার থেকে বহু দূরে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ৯১ শতাংশ ভোট গোনা হয়েছে। ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে ৫৩টি আসনে। অন্যদিকে আইজেনকোটের ঝুলিতে যেতে পারে ৫০টি আসন। এহেন পরিস্থিতিতে আরব দল রাম এবং জয়েন্ট লিস্ট যার দিকে ঝুঁকবে, সরকার তার। সূত্রের খবর, সরকারে শরিক হওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই দাবিদাওয়ার তালিকা তৈরি করে ফেলেছে রাম।
উল্লেখ্য, আইজেনকোট বছরচারেক আগে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন, ছিলেন নেতানিয়াহুর সঙ্গেই। দীর্ঘদিন ইজরায়েলের সেনাপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু মতবিরোধের জেরে নেতানিয়াহুর সঙ্গ ছাড়েন আইজেনকোট। এতদিন পর্যন্ত কোনও আরব দলই জোট সরকারে শরিক হয়নি। কিন্তু সেই অসম্ভবটাই এবার সম্ভব হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুকে সরাতে আরবরা হাত মেলাবে আইজেনকোটের সঙ্গে। আবার অনেকে মনে করছেন, অতীত শত্রুতা ভুলে নেতানিয়াহুও জোটের প্রস্তাব দিতে পারেন আইজেনকোটকে। সবমিলিয়ে, ইজরায়েল এখন সত্যিই ‘রাম ভরোসে’।
শেয়ার
লিংক



