ফলো অন না করানোর সিদ্ধান্তেই বাজিমাত! প্রদীপ্তর ১০ উইকেটে রনজিতে কেরল জয় বাংলার

হাতে ছিল ২০৯ রানের লিড। প্রতিপক্ষকে ফলো অন করানোর সুযোগও ছিল। কিন্তু সেই পথে হাঁটেনি বাংলা। বোনাস-সহ সাত পয়েন্টের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে না পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল। কেন এমন কৌশল? ম্যাচের তৃতীয় দিনের শেষে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না, তা প্রমাণ করে দিলেন বাংলার ক্রিকেটারেরাই। কেরলকে ২৮৭ রানে হারিয়ে রনজি ট্রফিতে জয়ের হ্যাটট্রিক বঙ্গ ব্রিগেডের।
তৃতীয় দিনের ম্যাচের শেষে বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন জানান, তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কথা মাথায় রেখেই ফলো অন করানোর ঝুঁকি নেননি তাঁরা। বলেছিলেন, “ফলো অন করানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখেই আমরা নিজেরা ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিই। এখানে গরমের পাশাপাশি আর্দ্রতাও প্রচণ্ড। বোলাররা ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল। মূলত সেই কারণেই আমরা আগে ব্যাট করতে চেয়েছিলাম। পিচে বল খুব বেশি ঘুরছে, এমনটা বলা যায় না। তবে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা সব সময়ই ঝুঁকির।” লক্ষ্মীর কথা যে অক্ষরে অক্ষরে ঠিক, তা বোঝা গেল।
ব্যাট হাতে শাহবাজ আহমেদের দুরন্ত পারফরম্যান্স এবং বল হাতে প্রদীপ্ত প্রামাণিকের বিধ্বংসী স্পেল বাংলার জয়ের ভিত গড়ে দেয়। প্রথম ইনিংসে শাহবাজের ব্যাট থেকে আসে ২০৩ বলে ১২১ রান। অঙ্কুর পাল করেন ৮০ বলে ৬৬। সুমন্ত গুপ্তের অবদান ৯৫ বলে ৪৯ রান। তাঁদের ব্যাটে ভর করেই প্রথম ইনিংসে সাড়ে ৩৫০ রান তোলে বাংলা। জবাবে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪১ রানে গুটিয়ে যায় কেরল। দ্বিতীয় দিনের শেষে ছ’উইকেট হারিয়েছিল তারা। তৃতীয় দিনের সকালে দ্রুত বাকি চার উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায় শচীন বেবির দল। বাংলার হয়ে প্রদীপ্ত প্রামাণিক ১৬.৩ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। মহম্মদ শামির সংগ্রহ ৩ উইকেট। শাহবাজও তুলে নেন ২টি উইকেট।
এর পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করে বাংলা। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৪৭ রান। শাহবাজ করেন ৪০ বলে ২০। অঙ্কুর পাল ও সুমন্ত গুপ্তের অবদান যথাক্রমে ১২ ও ৬ রান। তবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়ে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারায় বাংলা। শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে শেষ হয় দ্বিতীয় ইনিংস। সব মিলিয়ে কেরলের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০৮ রান। তৃতীয় দিনের শেষে ৫৩ রানের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল কেরল। ফলে শেষ দিনে বাংলার জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রবল। বাকি কাজটুকু করতে বেশি সময় নেননি বোলাররা। চতুর্থ দিনে স্কোরবোর্ডে মাত্র ৬৭ রান যোগ করেই শেষ ছ’টি উইকেট হারায় কেরল। ৫১ রান দিয়ে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নায়ক প্রদীপ্ত প্রামাণিক। দু’ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে শামি ও শাহবাজ দু’টি করে উইকেট নেন। ২৮৭ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করার কৌশল যে কাজে এসেছে, ম্যাচের ফলেই তার প্রমাণ। টানা তিন ম্যাচ জয়ে ৬ পয়েন্ট তুলে নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল বঙ্গ ব্রিগেড।
শেয়ার
লিংক



