বেজিংয়ের রোষে এমবাপে, ১০০০ কোটির লোকসান! কমিউনিস্ট পার্টির ‘ভঙ্গুরতা’ ফাঁস হতেই ক্ষুব্ধ জিনপিং?

ভুলবশত মাও জেদংকে একনায়ক বলে ফেলেছিলেন। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপের সেই মন্তব্য ঘিরে একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে চিনের রাজনৈতিক মহলে। একাধিকবার ক্ষমা চাওয়ার পরেও নিষ্পত্তি হওয়া তো দূর, বরং গোটা ঘটনায় পুরোদস্তুর রাজনৈতিক রং লেগে গিয়েছে। বিশ্লেষকদের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এমবাপের অপরাধ কি সত্যিই এতখানি গুরুতর? নাকি কমিউনিস্ট পার্টির ভঙ্গুর দশা প্রকাশ্যে চলে আসার প্রতিশোধ তুলছে শি জিনপিং সরকার?
বহুদিন ধরেই নেটদুনিয়ায় ঘোরাফেরা করছিল এমবাপেকে নিয়ে তৈরি একটি মিম। চিনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাও জেদংয়ের ছবিতেই বসিয়ে দেওয়া হয় এমবাপের মুখ। এবং সেই ছবি নেটিজেনদের বেশ মনে ধরে। তারপর থেকেই ফুটবলমহলে ভাইরাল হয়ে যায় এমবাপের ‘ডিক্টেটর’ ডাকনাম। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এমবাপে জানিয়েছিলেন, এই মিমটা তাঁরও বেশ পছন্দের। আর সেখানেই বিপত্তি। মাও জেদংয়ের নাম মনে করতে না পেরে ফরাসি তারকা বলে বসেন, “উনি যেন কে, মনে হয় চিনের একজন ডিক্টেটর।”
এই কথায় তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছে চিন। তারপর এমবাপে থেকে শুরু করে তাঁর ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ, এমনকী লা লিগার তরফ থেকেও ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। এমনকি লা লিগার প্রেসিডেন্ট জেভিয়ার তেবাস দেখাও করেন স্পেনে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে। সমস্যা সমাধান করতে কূটনৈতিক আলোচনা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে লা লিগা। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশের সমস্ত হোর্ডিং থেকে সরানো হয়েছে এমবাপের ছবি। তাঁর বিজ্ঞাপনী চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় আর্থিক ধাক্কাটা লাগতে চলেছে লা লিগার গায়ে। এমবাপে খেলেন বলে রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনা ম্যাচের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় সেদেশের জাতীয় মিডিয়া। আগামী দিনে লা লিগার সম্প্রচার একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তার ফলে ভারতীয় মুদ্রায় ১০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে লা লিগার। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, চিনা আমজনতার একটা অংশের মনে মাও জেদংকে নিয়ে এখনও নেতিবাচক ধারণাই রয়েছে। কিন্তু প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের ইতিবাচক আবেগটা দেখিয়ে স্পেনের উপর দাদাগিরি করছে বেজিং। সেকারণেই জিনপিং প্রশাসনের এত কড়াকড়ি বলে মনে করা হচ্ছে।
শেয়ার
লিংক



