0%

নতুন শিক্ষকদের রাজনীতি ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ বিরোধীদের

SOBDIK NEWS: আর চাইলেই রাজনীতিতে আসতে পারবেন না রাজ্য সরকার, রাজ্য সরকার সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা (Teacher Politics)। বুধবার ক্যাবিনেট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) সাথে রাজ্যের মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেখানে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণার পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রায় ৬০ হাজার নতুন পদ তৈরির অনুমতি মিলেছে।

রাজনীতি করতে পারবেন না নব নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা!

বুধবার নবান্নে ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী জানান, আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশের বাকি রাজ্যে সরকারি শিক্ষকেরা রাজনীতি করতে পারেন না। সেইমত পশ্চিমবঙ্গ সরকারও আজ ক্যাবিনেটে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা নতুন নিয়োগ হবেন, তাঁরা কোনোরকম প্রতক্ষ্য রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না।

মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। শিক্ষকদের গণতান্ত্রিক অধিকারে ‘কুঠারাঘাত’ করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন অধ্যাপক প্রদীপ ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, রাজ্য সরকারের এই একতরফা সিদ্ধান্ত কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই উদ্যোগ কার্যকর করার চেষ্টা হলে সেটা নিশ্চিতভাবে আইনি চ্যালেঞ্জের শুনমুখীন হবে।

আরও পড়ুনঃ কেড়ে নিচ্ছে বাকস্বাধীনতা! বিজেপির বিরুদ্ধে মৌলিক অধিকার হননের অভিযোগ মমতার

যদিও এর মানে এই নয় যে যারা বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষিকা অথচ রাজনীতিতে যুক্ত তাদের কোনোভাবে কোনোরকম মর্যাদা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম লাগা হবে। এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসাবে মূলত ৩৪ বছরের বাম জামান ও বাম পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূল আমলের দুর্নীতিতে রাজ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় হওয়া ক্ষতিকেই দায়ী করেছেন তিনি। তাই পুনরায় পড়াশোনার জন্য সুস্থ পরিবেশ ফেরাতেই এমন উদ্যোগ রাজ্য সরকারের।

এদিকে এই সিদ্ধান্ত জানানোর পর সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী সরকারের সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগে সরকারি স্কুলে পর্যাপ্ত পরিমাণ শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন। স্কুলে শিক্ষক নেই অথচ শিক্ষকেরা রাজনীতি করতে পারবেন কি না সেটা নিয়ে বিতর্ক তৈরী হচ্ছে! কেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী ছাত্র ও শিক্ষকের অনুপাত হওয়া উচিত ৩০;১, কিন্তু সেটা নেই। নিজেদের ব্যর্থতা থাকতেই এমনটা করছে রাজ্য সরকার বলেন তিনি।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker