তৃণমূলস্তরে ফুটবলার তুলতে মেঘালয়ে কোটি কোটি খরচ করবেন জন আব্রাহাম, পাশে দাঁড়াল সরকারও

উত্তর-পূর্ব ভারতের ফুটবল প্রসারে যুগান্তকারী উদ্যোগ মেঘালয় সরকারের। নিউ শিলংয়ের মাওখানুতে ১৯.৯৯ একর জমি ৪৫ বছরের জন্য আইএসএল ক্লাব নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসিকে (NorthEast United FC) লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। সেখানে ফুটবল অ্যাকাডেমি গড়তে প্রায় ৪০-৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারে ক্লাবটি। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের মালিক অভিনেতা জন আব্রাহাম। তিনি মেঘালয় পর্যটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডরও।
রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী তথা সরকারি মুখপাত্র ওয়াইলাডমিকি শিল্লা জানিয়েছেন, এই অ্যাকাডেমির মাধ্যমে তৃণমূল স্তরের ফুটবলের সঙ্গে পেশাদার প্রশিক্ষণের ব্যবধান কমানোই লক্ষ্য। তাঁর আশা, এর ফলে রাজ্যের প্রতিভাবান ফুটবলাররা উন্নত প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার সুযোগ পাবেন। প্রস্তাবিত অ্যাকাডেমিতে তিনটি ফুটবল মাঠ, আবাসনের ব্যবস্থা থেকে আধুনিক প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। শিল্লার কথায়, “বিস্তারিত আলোচনার পরে আমরা ওদের ৪৫ বছরের জন্য জমি লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” প্রথমে ৩০ বছরের জন্য জমি দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল। অন্যদিকে, নর্থইস্ট ইউনাইটেড চেয়েছিল ৬০ বছরের লিজ।
রাজ্য সরকারের সঙ্গে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। প্রায় আড়াই বছর আগেই অ্যাকাডেমি তৈরির বিষয়ে দু’পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল। গত মাসে জন আব্রাহাম জানিয়েছিলেন, দেশের সেরা ফুটবল অ্যাকাডেমি গড়াই তাঁর লক্ষ্য। শুধু ফুটবলার তৈরিই নয়, অলিম্পিকে ভারতের হয়ে পদক জিততে পারেন, এমন অ্যাথলিট তুলে আনার স্বপ্নও দেখছেন তিনি। মেঘালয়ে ফুটবলের প্রসারে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। ‘মিশন ফুটবল’ কর্মসূচি, স্থানীয় ক্লাবগুলিকে সহায়তা এবং তৃণমূল স্তরে প্রশিক্ষণের পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে। শিল্লা জানিয়েছেন, রাজ্যে প্রায় ১২৫টি তৃণমূল স্তরের ফুটবল কেন্দ্রও তৈরি করা হয়েছে। এবার লক্ষ্য, প্রতিভাবান ফুটবলারদের পেশাদার প্রশিক্ষণ ও বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য উন্নত মানের অ্যাকাডেমি গড়ে তোলা।
নর্থইস্ট ইউনাইটেড এর আগেও শিলংয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলেছে। নতুন অ্যাকাডেমি তৈরি হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের ফুটবলের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকারের। পাশাপাশি, শিলংয়ে বড় মাপের প্রতিযোগিতা আয়োজনের সম্ভাবনাও বাড়বে। উত্তর-পূর্বে ফুটবলের জনপ্রিয়তা প্রবল। যা কাজে লাগিয়ে প্রতিভার খোঁজ থেকে ফুটবলার তৈরি, পুরো প্রক্রিয়াটিকে এক ছাতার তলায় আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। মেঘালয় সরকার জানিয়েছে, ফুটবলের উন্নয়নে স্থানীয় ক্লাব ও অন্যান্য সংস্থাকেও সাহায্য করতে তারা প্রস্তুত।
শেয়ার
লিংক



