ডিজিটাল অ্যারেস্টে গ্রাহকদের টাকা উধাও হলে দায় কার? ক্ষতিপূরণ নিয়ে ব্যাঙ্কগুলিকে বড় বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

সবদিক নিউজ:ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদে পড়ে গ্রাহকের টাকা খোয়া গেলে ব্যাঙ্কের গাফিলতি প্রমাণিত হলে দিতে হতে পারে ক্ষতিপূরণ। সাইবার প্রতারণা এবং ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest)-এর বাড়বাড়ন্তের মধ্যে ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে এমনই কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত জানায়, নজরদারির দায়িত্ব পালনে কোনও ব্যাঙ্ক ব্যর্থ হলে এবং তার জেরে গ্রাহক প্রতারিত হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। শুধু প্রতারণার পর তদন্ত করে দায় সারলেই চলবে না, বরং গ্রাহকের টাকা যাতে প্রতারকদের হাতে পৌঁছতে না পারে, তার জন্য আগে থেকেই কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আদালতের এই অবস্থান সাইবার প্রতারণার (Cyber Fraud) শিকার হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিজিটাল অ্যারেস্টে গ্রাহকদের টাকা উধাও হলে ক্ষতিপূরণ নিয়ে ব্যাঙ্কগুলিকে বড় বার্তা সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court of India)
দেশে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে প্রতারণার ঘটনা কীভাবে বাড়ছে, তা নিয়ে শুনানির সময় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর সঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে। সচেতনতামূলক প্রচার চলার পরেও মানুষ কীভাবে এই ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। তিনি মন্তব্য করেন, গণতান্ত্রিক দেশে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব বলে মানুষ বিশ্বাস করেন কীভাবে! তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, ভুয়ো গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে প্রতারকেরা সাধারণ মানুষকে মানসিক চাপে ফেলে তাঁদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। অথচ এই ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং পুলিশের সাহায্য নেওয়া জরুরি (Supreme Court of India)।
PNB-তে একী কাণ্ড! আচমকাই গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও ৩৫ কোটি টাকা
শুনানিতে প্রবীণ আইনজীবী এন এস নাপ্পিনাই জানান, সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় এক মহিলা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হারিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রবল আতঙ্কের কারণে ভুক্তভোগীরা অনেক সময় এমন মানসিক অবস্থায় পৌঁছে যান, যখন তাঁরা প্রতারকদের নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য হন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরমানি আদালতকে জানান, আগের বছরের তুলনায় ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনা প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। তবে প্রধান বিচারপতি এই পরিসংখ্যানের প্রেক্ষিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, চলতি বছরেই এই ধরনের প্রতারণায় দেশে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। ভারতীয় সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার বা আই৪সি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অগস্টের মধ্যে এই ধরনের প্রতারণা সংক্রান্ত ২১ হাজার ৯০০টিরও বেশি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৬৪৭ কোটি টাকা।
প্রতারণা ঠেকাতে ব্যাঙ্কগুলির ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের মতে, কোনও গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন দেখা গেলে তা শনাক্ত করার জন্য ব্যাঙ্কগুলির আরও উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সন্দেহজনক লেনদেন সাময়িকভাবে আটকে রাখা, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অস্বাভাবিক আর্থিক গতিবিধি চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন হলে সরাসরি যাচাইয়ের ব্যবস্থা করার উপর জোর দিয়েছে আদালত। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, প্রতারণা ঘটে যাওয়ার পর তদন্ত করা অনেকটা ময়নাতদন্তের মতো। তার বদলে প্রতারণা আটকানোর জন্য আগে থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? পাশাপাশি, ডিজিটাল অ্যারেস্টের মাধ্যমে প্রতারণার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত নিকটবর্তী থানায় সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
সকালে ঘুম ভাঙতেই মিলল চাকরি যাওয়ার ই-মেল! অক্টোবরে দ্বিতীয়বার কর্মী ছাঁটাই Amazon-এ
এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রস্তাবিত ‘কেওয়াইসি সংশোধিত নির্দেশিকা ২০২৬’ খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নির্দেশিকাটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ এবং ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যকর করার কথা রয়েছে। নতুন নিয়মে ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির নজরদারির দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্বে গাফিলতি হলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানির আগে সমস্ত অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকাও জমা দিতে বলা হয়েছে আরবিআইকে। তবে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত নিয়ম এখনও নির্ধারিত হয়নি। নতুন নির্দেশিকা পর্যালোচনার পরেই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে শীর্ষ আদালত। ফলে সাইবার প্রতারণা রুখতে ব্যাঙ্কগুলির দায়িত্ব কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর।



