ছদ্মবেশে ১৫০০ কিমি পেরিয়ে আর্জেন্টিনায়! তারপর আমেরিকা, কীভাবে পুলিশের চোখে ধুলো বলসোনারোর?

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৪০ লক্ষ ভোটে লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হয়েছেন ফ্লাভিও বলসোনারো (Flavio Bolsonaro)। তারপরই সপরিবারে দেশ ছেড়ে রালান তিনি। বর্তমানে তিনি আমেরিকায় ‘আশ্রয়ে’ রয়েছেন। কিন্তু কীভাবে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে দেশ ছাড়েন তিনি?
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর রাতে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন বলসোনারো। অভিযোগ, এই যাত্রায় তিনি তাঁর ইটালিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। কারণ, তাঁর ব্রাজিলের সাধারণ ও কূটনৈতিক দুই পাসপোর্ট আগেই বাতিল করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বিদেশি পাসপোর্ট থাকলে তা জমা দেওয়ার নির্দেশ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তা মানেননি বলসোনারো। এমনটাই সূত্রের খবর। একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় বলসোনারোর বাসভবন থেকে একাধিক কনভয় বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। সূত্রের খবর, তিনি ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর পুয়ের্তো ইগুয়াজু থেকে তাঁর ব্যক্তিগত বিমানে সওয়ার হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে কনভয়গুলির মধ্যে কোনও একটিতে বলসোনারো ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
পরবর্তীতে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, বুধবার সীমান্ত পেরিয়ে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন ব্রাজিলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং তার পরিবার। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল – তাঁর দেশ ছাড়ার প্রথম খবরটি প্রকাশের ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পর তিনি এই সীমান্ত অতিক্রম করেন। আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি ব্রাজিলের ফোজ দো ইগুয়াসু শহরের সঙ্গে আর্জেন্টিনার পুয়ের্তো ইগুয়াসুকে যুক্তকারী ‘তানক্রেদো নেভেস আন্তর্জাতিক সেতু’ দিয়ে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন। তাঁর কাছে বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র ছিল বলেও দাবি করেছে আর্জেন্টিনার প্রশাসন। পাশাপাশি, তারা জানায়, আর্জেন্টিনায় প্রবেশে বলসোনারোর কোনও আইনি বাধা ছিল না। কিন্তু ব্রাসিলিয়া থেকে ১, হাজার ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে কীভাবে তিনি আর্জেন্টিনায় পৌঁছলেন, তা এখনও অজানা। তবে সূত্রের দাবি, ছদ্মবেশে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি ব্রাজিল ছাড়েন। ব্রাজিল পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বলসোনারো যে দেশ ছেড়েছেন, তার কোনও সরকারি নথিপত্র নেই। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আর্জেন্টিনার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বলসোনারো ও তাঁর পরিবার একটি ব্যক্তিগত বিমানে সওয়ার হয়ে ইকুয়েডরের বন্দরনগরী গুয়ায়াকুলে পৌঁছান। তারপর সেখান থেকে আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। আমেরিকার ‘ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’-এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বলসোনারো তাঁর বাতিল হয়ে যাওয়া কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করেই মার্কিন মুলুকে প্রবেশ করেছেন।
শেয়ার
লিংক



