‘প্রথম বলেই ছক্কা মারার চেষ্টা করি’, কার মন্ত্রে বদলে গিয়েছে দলের মানসিকতা? ফাঁস তিলকের

নিউজিল্যান্ডে ফুল ফোটাচ্ছে টিম ইন্ডিয়া। কিউয়ি ভূমে পরিবেশ আলাদা। পিচের চরিত্রও অন্যরকম। কিন্তু তাতে দাপট কমেনি ভারতীয় দলের। প্রথম তিনটি টি-টোয়েন্টিতে জিতে দু’ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজ পকেটে পুরে ফেলেছে ভারত। এই সাফল্যের রসায়ন কী? সহ-অধিনায়ক তিলক বর্মা (Tilak Varma) জানিয়েছেন, কোচ গৌতম গম্ভীরের দেওয়া একটি মন্ত্রই বদলে দিয়েছে দলের মানসিকতা।
চতুর্থ টি-টোয়েন্টির আগে সাংবাদিক বৈঠকে তিলক বুঝিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতি যেমনই হোক, অজুহাত দেওয়ার কোনও জায়গা নেই ভারতীয় দলে। তাঁর কথায়, “এই পর্যায়ে এসে অজুহাত দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলছি আমরা। তাই যে কোনও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদের এমন একটা মান তৈরি করতে হবে, যা দেখে আগামী প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে।”
নিউজিল্যান্ড সফরের শুরুতেই দলের লক্ষ্য পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন গম্ভীর। শুধু টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতাই নয়, গোটা সফরের জন্য আত্মবিশ্বাস তৈরি করাও ছিল তাঁর পরিকল্পনা। তিলক বলেন, “গৌতম স্যর শুরুতেই আমাদের বিষয়টা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দীর্ঘ সফর। তাই টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো শুরু করতে হবে, যাতে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজেও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা যায়। টি-টোয়েন্টি সিরিজে আমাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।”
প্রথম লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। সিরিজ জেতা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তাতেই সন্তুষ্ট নন তিলকেরা। এবার লক্ষ্য নিউজিল্যান্ডকে তাদেরই মাটিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করা। তিলক বলছেন, “এখন আমাদের লক্ষ্য সিরিজে চুনকাম করা। এটাই পরবর্তী লক্ষ্য। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওদের হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে আমাদের সমর্থকদের মুখে আরও বড় হাসি ফুটবে।”
আগে ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বরে নেমে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব সামলাতেন তিনি। এখন তাঁর কাঁধে ফিনিশারের দায়িত্ব। সেই অনুযায়ী বদলেছে ব্যাটিংয়ের ধরনও। আগে উইকেটে নেমে কয়েকটি বল দেখে নিয়ে সিঙ্গল-ডবল করে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। এখন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক তিলক। নিজের নতুন ভূমিকা নিয়ে তিলক বলেন, “পাওয়ার হিটিংয়ের ক্ষমতা আমার আগে থেকেই ছিল। তবে আগে ব্যাট করতে নেমে কয়েকটা বল দেখে নেওয়ার চেষ্টা করতাম। সিঙ্গল বা ডবল নিয়ে রান বাড়াতাম। এখন আমার মানসিকতা বদলেছে। প্রথম বল থেকেই ছক্কা মারার চেষ্টা করি। মারার মতো বল পেলে প্রথম বলেই আক্রমণ করি। এই দায়িত্বটা উপভোগ করছি। কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে জিতিয়ে ফেরানোর আনন্দই আলাদা।”
শেয়ার
লিংক



