0%

এশিয়ার দ্বিতীয় ভ্যালুয়েবল টেলিকম সংস্থা! বাজারে লিস্টিংয়ের পর Jio-র দাপট, গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়েও বড় চমক

সবদিক নিউজ:বিশ্বের টেলিকম মানচিত্রে নতুন শক্তি হিসেবে উঠে এল জিও (Reliance Jio)। শেয়ার বাজারে (Share Market) তালিকাভুক্ত হওয়ার পরই বাজার মূলধনের নিরিখে বিশ্বের ষষ্ঠ মূল্যবান টেলিকম সংস্থার জায়গা করে নিয়েছে মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani) এই সংস্থা। শুধু তাই নয়, চিনের চায়না মোবাইলের পর এশিয়ার দ্বিতীয় মূল্যবান তালিকাভুক্ত টেলিকম সংস্থা এখন জিও প্ল্যাটফর্মস। ২৮ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, সংস্থাটির বাজার মূলধন প্রায় ১৩১ বিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১২.৫ লক্ষ কোটি টাকা। এই তালিকায় জিও পিছনে ফেলেছে ভারতী এয়ারটেলকেও, যার বাজার মূলধন প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার। তবে এই মূল্যায়ন নির্দিষ্ট দিনের বাজারদরের ভিত্তিতে করা হয়েছে, ফলে শেয়ারদরের ওঠানামার সঙ্গে র‌্যাঙ্কিংয়েও পরিবর্তন হতে পারে।

বিশ্বের টেলিকম মানচিত্রে নতুন শক্তি হিসেবে উঠে এল জিও (Reliance Jio)

বিশ্বের টেলিকম সংস্থাগুলির তালিকায় জিওর (Reliance Jio) আগে রয়েছে চিনের চায়না মোবাইল, যার বাজার মূলধন প্রায় ২২১ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভেরাইজন, তার পরেই টি-মোবাইল ইউএস, এটিঅ্যান্ডটি এবং জার্মানির ডয়েচে টেলিকম। প্রায় ১৩১ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়ন নিয়ে এই তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে জিও। সংস্থাটির শেয়ার আইপিও-র ১,১১৯ টাকার ইস্যু মূল্যের তুলনায় বেশি দামে, ১,৩৫৮ টাকায় বাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ভারতের অন্যতম বৃহৎ এই আইপিও থেকে মোট ৩০,২১৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। ইস্যুটি সামগ্রিকভাবে ২২.১৯ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়। যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশে চাহিদা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

 ডিজিটাল অ্যারেস্টে গ্রাহকদের টাকা উধাও হলে দায় কার? ক্ষতিপূরণ নিয়ে ব্যাঙ্কগুলিকে বড় বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

জিওর এই উত্থানের পিছনে রয়েছে তার বিশাল গ্রাহকভিত্তি এবং প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রিলায়্যান্স জিও ইনফোকমের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৫৩৩.৩ মিলিয়ন, অর্থাৎ ৫৩.৩৩ কোটি। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সংস্থার ৫জি গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ২৬৮.৫ মিলিয়ন বা ২৬.৮৫ কোটি। চায়না মোবাইলের পর দেশভিত্তিক গ্রাহক সংখ্যার নিরিখে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টেলিকম সংস্থা জিও। সংস্থার রেড হেরিং প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৪জি, ৫জি, ৬জি, ক্লাউড নেটওয়ার্ক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ৭,২২০টি পেটেন্টের আবেদন জমা দিয়েছিল তারা। তবে পেটেন্টের সংখ্যা বেশি হলেই যে আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্যিক সাফল্য নিশ্চিত, তা নয়।

এ বার জিওর নজর ভারতের বাইরের বাজারেও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, এন্টারপ্রাইজ পরিষেবা এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের মতো ক্ষেত্রে ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার। আন্তর্জাতিক টেলিকম সংস্থাগুলিও এখন শুধু মোবাইল পরিষেবার উপর নির্ভর না করে ডিজিটাল পরিকাঠামো, ফাইবার নেটওয়ার্ক এবং ক্লাউড পরিষেবায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। সেই পথেই এগোতে পারে জিও। নিজেদের প্রযুক্তি অন্য সংস্থাকে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং ব্যবসায়িক পরিষেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন আয়ের পথ খুলতে পারে তারা। তবে এই পরিকল্পনাগুলিকে লাভজনক আন্তর্জাতিক ব্যবসায় পরিণত করাই হবে সংস্থার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

 PNB-তে একী কাণ্ড! আচমকাই গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও ৩৫ কোটি টাকা

এদিকে, ব্রোকারেজ সংস্থা নোমুরার মতে, জিওর (Reliance Jio) বিপুল মূলধনী বিনিয়োগের পর্ব প্রায় শেষের দিকে। ফলে আগামী দিনে পরিকাঠামো নির্মাণে খরচের চাপ কমলে সংস্থার হাতে নগদের জোগান বাড়তে পারে এবং বিনিয়োগ থেকে রিটার্নও উন্নত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ ভবিষ্যতে ব্যবসা বৃদ্ধির আর একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে, যদিও বর্তমানে এই খাত থেকে উল্লেখযোগ্য আয় হচ্ছে না। বুধবার জিও প্ল্যাটফর্মসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আকাশ আম্বানি জানান, সংস্থার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ৫৪ কোটিরও বেশি গ্রাহককে পরিষেবা দিচ্ছে। এখন দেখার, এই বিপুল গ্রাহকভিত্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে জিও কতটা সফলভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারে। কারণ, সংস্থার ভবিষ্যৎ সাফল্য শুধু গ্রাহক সংখ্যা বা বাজারমূল্যের উপর নয়, বরং ধারাবাহিক মুনাফা এবং বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতার ক্ষমতার উপরও নির্ভর করবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker