0%

কালীপুজোয় ফানুস ওড়াতে লাগবে লাইসেন্স! বড় নিয়ম জানালেন রাজ্য পুলিশের ডিজি

SOBDIK NEWS: কালীপুজোর (Kali Puja) আনন্দে বাজির পাশাপাশি ফানুস ওড়ানোর প্রবণতাও দেখা যায়। কেউ বাড়ির ছাদ থেকে, আবার কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আকাশে ফানুস ওড়ান। কিন্তু এই অভ্যাস থেকেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করল রাজ্য পুলিশ। উৎসবের আগে ফানুস এবং এয়ার বেলুন ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের জিনিস ওড়ানোর ক্ষেত্রে ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না; নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

কালীপুজোয় (Kali Puja) ফানুস ওড়ানোতে কী নিয়ম মানতে হবে?

রাজ্য পুলিশের ডিজি জানিয়েছেন, যথাযথ অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া ফানুস কিংবা এয়ার বেলুন ওড়ানোর জেরে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এ বিষয়ে নিয়ম মানার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে আগেভাগেই সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলেই প্রশাসনের এই উদ্যোগ।

কালীপুজোকে সামনে রেখে প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশ এবং প্রশাসনের মধ্যে বৈঠক হয়। পরে নবান্নের সভাঘর থেকে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে উৎসবের সময় একাধিক বিধিনিষেধের কথা তুলে ধরা হয়। সেখানে স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ পরিবেশের কথা বিবেচনা করে গ্রিন বাজি ব্যবহারের উপর জোর দেন। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সাইলেন্ট জোনের নিয়মও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ এবং বৃদ্ধাশ্রমের ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দবাজি ফাটানো চলবে না। এই এলাকাগুলিতে নীরবতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে উৎসবের শব্দে অসুস্থ মানুষ, পড়ুয়া কিংবা প্রবীণদের সমস্যা না হয়।

স্বরাষ্ট্রসচিব বলেন, “নিজের আনন্দ যেন অন্যের দুঃখের কারণ না হয়।” তাঁর মতে, শুধু প্রশাসনের নজরদারি বা বিধিনিষেধ দিয়ে বাজি ব্যবহারের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। নিয়ম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা পরিষ্কার হওয়া দরকার। সেই কারণে সচেতনতা বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কালীপুজোর আগে বাজির বাজারগুলিতে নজরদারি চালানোর কথাও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : বিদেশের স্টাইলে কলকাতার তিন জায়গায় তৈরি হবে ফুড স্ট্রিট! বিরাট ঘোষণা অগ্নিমিত্রার

বাজি নিয়ে কোনও অনিয়ম চোখে পড়লে সাধারণ মানুষ যাতে প্রশাসনকে জানাতে পারেন, সে জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। নিষিদ্ধ বাজির বিক্রি ও ব্যবহার রুখতে অভিযান চলবে। কালীপুজোর দিনগুলিতেও পুলিশি টহলদারি বজায় থাকবে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে প্রশাসন। উৎসবের আনন্দ যেন কারও নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য বা স্বস্তির জন্য বিপদের কারণ না হয়ে ওঠে, সেটাই প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই কালীপুজোর প্রস্তুতি পর্বেই সতর্ক করে দেওয়া হল নাগরিকদের।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker