১৬ ঘণ্টা বিমানযাত্রার পর ৩ ঘণ্টার মধ্যে মাঠে কোহলি, ‘বোনাস’ পেলেন ৪০ হাজার দর্শক

জেট ল্যাগ কাহারে কয়? এ পৃথিবীর কম-বেশি বহু মানুষ জেট ল্যাগ কাকে বলে, কতটা ক্লান্তি সেই শব্দবন্ধের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকে, জানেন। কিন্তু বিরাট কোহলির অভিধানে বোধহয় সেই শব্দটা নেই। নইলে কেউ পনেরো-ষোলো ঘণ্টার ‘লং-হল’ ফ্লাইট থেকে নামার তিন ঘণ্টার মধ্যে মাঠে চলে আসতে পারে?
পেশাদারি খেলাধুলোয় অধুনা একটা শব্দ প্রত্যেকের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়-বিশ্রাম। আইপিএলের সময় যে কারণে ঠাঁসা ক্রীড়াসূচি থেকে সামান্য ফাঁকফোঁকর পাওয়া গেলেই ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দিয়ে দেওয়া হয়। প্র্যাকটিসের রগড়ানির ময়দানে না নামিয়ে। কিছু করার নেই। ক্রিকেট নাম খেলাটা এখন এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, প্লেয়ারকে তাজা ভাবে মাঠে নামতে গেলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। ঠাঁসা সূচি। রাত-বিরেতে ফ্লাইট। বিদেশ সফর হলে আবার বিবিধ ‘টাইমজোন’ ঝঞ্ঝাট সামলানো। কম অশান্তি তো নেই। কিন্তু বিরাট কোহলি বোধহয় অন্য ধাতু দিয়ে তৈরি। বিশ্ব ক্রিকেটকে যা দিয়েছেন কোহলি, ভারতীয় ক্রিকেটকে যে ভাবে সর্বস্ব উজাড় করে সেবা করেছেন, তাতে শুক্রবার দুপুরে অকল্যান্ড পৌঁছে তিনি মাঠের বদলে হোটেল রুমে বিশ্রামকে প্রাধান্য দিলে, কারও কিছু বলার থাকত না। কিন্তু তিনি সে সমস্ত আর করলেন কোথায়?
আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ভারত-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ। যে সিরিজে খেলতে দেখা যাবে দেশের দুই অবিনশ্বর ক্রিকেট চরিত্রকে। রোহিত শর্ম এবং বিরাট কোহলিকে। নিউজিল্যান্ডে প্রবাসী ভারতীয় প্রচুর। চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত সমর্থনের চড়া মেজাজ দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। এঁদের কাছে রোহিত-বিরাটকে শেষ বারের মতো চোখের সামনে খেলতে দেখা (খুব সম্ভবত তাই, আর হয়তো আসবেন না তাঁরা) হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো। উৎসবের মতো। শুধু জানা ছিল না, তাঁদের উৎসব শুক্রবার থেকেই আগাম শুরু হয়ে যাবে। ইডেন পার্কে ভারত-নিউজিল্যান্ড চতুর্থ টি-টোয়েন্টির টিকিট যে ‘সোল্ড আউট’ তা দিন কয়েক আগে বিবৃতি জারি করে জানিয়ে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। তা, এ দিন চল্লিশ হাজার দর্শকাসনের মাঠে যাঁরা একটু আগে-আগে এলেন, তাঁরা রীতিমতো ‘বোনাস’ নিয়ে ফিরে গেলেন! কারণ, খেলা শুরুর আগে ভারতীয় ওয়ানডে টিম নেট সেশন করছিল যে মাঠে! রোহিত শর্মা, কেএল রাহুল, অধিনায়ক শুভমান গিল এবং বিরাট কোহলি স্বয়ং! এবং চোখের সামনে দুই ক্রিকেট-মহারথীকে চাক্ষুষ দেখতে পেলে যা হয়। দর্শকদের পুরো আগ্রহটাই ঘুরে গেল ‘রো-কো’-র দিকে। সেই সময় দর্শকদের আকৃতি দেখলে কে বলবে, আদতে তাঁরা এসেছেন আস্ত একখানা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দেখতে! ইন্ডিয়া ওয়ান ডে টিমের ক্রিকেটারদের ট্রেনিং সেশন দেখতে নয়!
মধ্যিখানে আবার ঝিরঝিরে বৃষ্টি নামল। ভারতীয় প্লেয়ারদের অনেককে দেখা গেল, ইন্ডোরের উদ্দেশে হাঁটা দিতে। একমাত্র কোহলি বাদে! মাঠের স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ উপেক্ষা করে, প্রায় মিনিট কুড়ি ধরে তিনি ‘হাই ইন্টেনসিটি’ ফিটনেস ড্রিল চালিয়ে গেলেন। এক সময় দেখা গেল, দুই ব্ল্যাক ক্যাপস ক্রিকেটার ডারেল মিচেল এবং ফিন অ্যালেন গিয়ে কোহলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এলেন। কুশল বিনিময় চলল। আসলে কোহলি তো বিদেশের মাটিতে ভারতীয় দলের মহাগুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার শুধু নন। ভারতবর্ষের চলমান প্রতিনিধিও বটে! এ সমস্ত দেখার ফাঁকেই জানতে পারলাম, বিমানবন্দরে নামার পরেও কোহলিকে নিয়ে একপ্রস্থ হইহল্লা হয়েছে। সমর্থকরা বিমানবন্দরে ছেঁকে ধরেছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ককে। যাঁদের দেদার সেলফি-অটোগ্রাফের আবদার মেটাতে হয়েছে কোহলিকে। যা তিনি মিটিয়েছেন হাসি মুখে। সন্তোষ চিত্তে।
কী, কোথাও পেলেন নাকি জেট ল্যাগ?
It’s really tough being Virat Kohli 😬 #Cricket #ViratKohli https://t.co/0R9GcsEZIz
— CREX (@Crex_live) October 30, 2026
শেয়ার
লিংক



