জাতীয় সাঁতারে চার পদক ১৪ বছরের সানিথির, খরচ চালাতে সরকারি সাহায্যের আশায় পরিবার

বয়স মাত্র চোদ্দো। কিন্তু এরমধ্যেই নিজের প্রতিভার জোরে সিনিয়র পর্যায়ে জায়গা তৈরি করে নিচ্ছেন সানিথি মুখোপাধ্যায়। সদ্য আমেদাবাদে অনুষ্ঠিত জাতীয় শর্ট কোর্স সিনিয়র অ্যাকোয়াটিক চ্যাম্পিয়নশিপে চারটি পদক পেয়েছেন বারাসতের এই কিশোরী। দু’টি রুপো, দু’টো ব্রোঞ্জ। পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় কনিষ্ঠতম পদকপ্রাপকও সানিথি।
পুজোর আগেই জাতীয় সাব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে চারটে সোনার সঙ্গে একটি ব্রোঞ্জও পেয়েছিল সানিথি। তবে গত রবিবার থেকে আমেদাবাদে হওয়া প্রতিযোগিতায় তাঁর লড়াই ছিল দেশের সেরা সাঁতারুদের বিরুদ্ধে। সেখানেও সাফল্য পেলেন এই বঙ্গ কন্যা। ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে রুপো পেয়েছেন সানিথি, সেকেন্ডের ভগ্নাংশে পিছিয়ে পড়ে। ৪০০ মিটার মেডলিতে এসেছে ব্রোঞ্জ। এরপর ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ফের রুপো পেয়েছেন তিনি। চতুর্থ পদক, অর্থাৎ ব্রোঞ্জ এসেছে চারশো মিটার ফ্রিস্টাইলে। তবে সেই পারফরম্যান্স সন্তুষ্ট করতে পারছে না সানিধিকে। তাঁর কথায়, “আমি এই ফলাফলে মোটেই খুশি নই। আরও ভালো পারফর্ম করতে হবে। নিজেকে সেভাবে তৈরি করব।” সানিথির লক্ষ্য, অলিম্পিকে পদক জয়। তবে বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম প্রতিযোগিতার ছাড়পত্র কোনও কোটার মাধ্যমে পেতে নারাজ এই কিশোরী। বরং গেমসের যোগ্যতামান পার হয়ে সরাসরি অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার উপর জোর দিচ্ছেন তিনি। সেক্ষেত্রে লস অ্যাঞ্জেলেসে খেলার সুযোগ না পেলেও হতাশ হবেন না সানিথি। বরং নিজেকে তৈরি করবেন ছ’বছর পরে হতে চলা ব্রিসবেন অলিম্পিকের জন্য।
তবে সানিথির এমন পারফরম্যান্সের আনন্দের মাঝেও চিন্তার ভাঁজ তাঁর শিক্ষক পিতা সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের কপালে। মেয়ের খেলার বিপুল খরচ সামলাতে সমস্যায় পড়ছেন তিনি। সঞ্জয়ের কথায়, “মেয়ের পারফরম্যান্স নিয়ে আমাদের কখনও ভাবতে হয় না। তবে সাঁতারের মতো খেলা চালাতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হয়। এক-একটা কস্টিউমের দাম প্রায় সত্তর হাজার টাকা। সেখানে একটা কস্টিউম পরে মোটামুটি চারটে ইভেন্টে লড়তে পারে। অর্থাৎ, একটা প্রতিযোগিতাতেই মোটামুটি দু’টো কস্টিউম প্রয়োজন হয়।” এই পরিস্থিতিতে সরকারি সাহায্য চাইছেন তিনি। “শুনেছি রাজ্যের নতুন সরকার কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের সাহায্য করা নিয়ে। মেয়ের জন্য এমন সাহায্য পেলে ভালো হয়”, বার্তা সঞ্জয়ের।
শেয়ার
লিংক



