‘এরা আলু থেকে সোনা বানায়’, গুজরাট সফরে রাহুলকে কটাক্ষ মোদির, তোপ বিরোধীদের

গুজরাট সফরে গিয়ে এক জনসভায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানায় নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইরান যুদ্ধে বেহাল অবস্থার মাঝেও ভারত মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেকথা স্মরণ করিয়ে মোদি বলেন, কিছু মানুষ গুজব ছড়িয়ে দেশের মানুষকে ভয় দেখাচ্ছিল। এপ্রসঙ্গেই রাহুল গান্ধীর এক পুরনো বয়ানের অংশ তুলে ধরে মোদির কটাক্ষ, ‘এই লোকেরা আসলে আলু থেকে সোনা বানাতেই ব্যস্ত।’
এদিন গুজরাটের বনসকাঁটায় ১৪ হাজার কোটির উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এরপর জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “ইরান যুদ্ধের সময় দেশে গুজব ছড়ানো হয়েছিল। সার মিলবে না দাবি করে কৃষকদের মনে ভয় ঢোকানো হয়। মা-বোনেদের মনে ভয় ঢোকানো হয় তাঁরা গ্যাস পাবেন না। এই গোটা ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে মোদিকে বদনাম করা।” এরপরই দেশের কৃষক ও মা-বোনেদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম মোদি আপনাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে। সেই যুদ্ধ আজও চলছে, কিন্তু মোদি সরকার কোথাও কোনও ঘাটতি হতে দেয়নি।”
রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে মোদি বলেন, ‘বনসকাঁটায় আলু আজ পৃথিবী বিখ্যাত। কিন্তু তারপরও এখানকার কেউ বলবে না, আমি আলু থেকে সোনা বানাব।’
এর সঙ্গেই রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে মোদি বলেন, ”বনসকাঁটায় আলু আজ পৃথিবী বিখ্যাত। কিন্তু তারপরও এখানকার কেউ বলবে না, আমি আলু থেকে সোনা বানাব। বরং ওরা বলবে, আমরা অনেক আগে থেকেই আলু থেকে সোনা বানাই।” প্রসঙ্গত, আলু সোনা হয়ে যাওয়ার এই মন্তব্য প্রায় ৯ বছর আগে শোনা গিয়েছিল রাহুল গান্ধীর মুখে। যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি এমন একটি মেশিন বসাব যা দিয়ে একদিক থেকে আলু ঢুকবে এবং অন্যদিক থেকে সোনা বেরিয়ে আসবে। এত টাকা তৈরি হবে যে আপনারা বুঝতেই পারবেন না তা দিয়ে কী করবেন।’ গুজরাটের পাটনে এক জনসভায় রাহুল এই মন্তব্য করলেও তার অর্ধেক অংশ ভাইরাল হয়েছিল সোশাল মিডিয়ায়। সম্পূর্ণ মন্তব্যে বলা হয়েছিল, ‘এই কথাগুলো আমার নয়, নরেন্দ্র মোদির।’ এবার সেই ইস্যু টেনেই রাহুলকে কটাক্ষ করলেন মোদি।
এদিনের সভায় সারের ঘাটতির প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের নিশানায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা সত্য যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বে সারের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। এর দামও অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সরকার এই বোঝা কৃষকদের উপর পড়তে দেয়নি। বিশ্বে যে একবস্তা সার ৩০০০ টাকায় পাওয়া যায়, তা ভারতে এখনও ৩০০ টাকারও কমে পাওয়া যায়। বিশ্বে ডিএপি সারের দাম বেড়ে ৫০০০ টাকা হয়েছে। কিন্তু সেই একই বস্তা ভারতে ১৩৫০ টাকায় পাওয়া যায়। অনিশ্চয়তায় ভরা এই বিশ্বে ভারতের দ্রুত অগ্রগতি সমগ্র বিশ্বের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।”
শেয়ার
লিংক



