ডায়াবেটিসের ভয়ে বাঙালির ভাতবিলাসে ইতি? প্রিয় খাবার না ছেড়েই সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখুন এই উপায়ে

ডায়াবেটিস ধরা পড়লেই প্রথম কোপ পড়ে ভাত, রুটি আর ডালে! কেউ ভাতের পরিমাণ কমিয়ে দেন, কেউ আবার রাতের খাবার থেকে রুটি বাদ দেন। কিন্তু বাঙালির রোজকার পাতে থাকা এই খাবারগুলিই কি সত্যিই ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী? নাকি বিপত্তি লুকিয়ে রয়েছে খাওয়ার পরিমাণ, খাবারের ধরন আর বদলে যাওয়া জীবনযাত্রায়?
ভারতীয় খাবার ছেড়ে না দিয়েও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের পরামর্শ, খাবার বাদ দেওয়ার বদলে বদলাতে হবে খাবারের অভ্যাস।
ভাত নয়, সমস্যার শিকড় অন্যত্র
দেশে আনুমানিক ১০.১ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আরও ১৩.৬ কোটি মানুষের রয়েছে প্রি-ডায়াবেটিস। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়দের দৈনিক খাদ্যশক্তির প্রায় ৬২.৩ শতাংশই আসে কার্বোহাইড্রেট থেকে। এর মধ্যে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনি।
একসময় কৃষিকাজ-সহ নানা পেশায় শারীরিক পরিশ্রম ছিল দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। এখন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা বা অফিসে বসে কাজ করার প্রবণতা বেড়েছে। অথচ খাবারের ধরন ও পরিমাণে সেই অনুপাতে বদল আসেনি। তার উপর সহজে মিলছে অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার। ফলে শরীর যতটা শক্তি খরচ করছে, তার তুলনায় খাবার থেকে শক্তি আসছে অনেক বেশি। তাই শুধু কার্বোহাইড্রেট নয়, তার গুণমান, পরিমাণ এবং শারীরিক সক্রিয়তা, সব কিছুর উপরেই নজর দিতে হবে।
পাতে কী থাকবে, কতটা থাকবে?
কঠোর ডায়েটের বদলে থালায় ভারসাম্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের কথায়, পাতে অর্ধেক থাকবে ফাইবার-সমৃদ্ধ শাকসবজি। এক-চতুর্থাংশ প্রোটিন এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট। অর্থাৎ, ভাত বা রুটির সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি এবং ডাল, মাছ, ডিমের মতো প্রোটিনের উৎস রাখতে হবে। পরিমাণের দিকেও খেয়াল জরুরি। তবে প্রত্যেকের খাদ্যতালিকা এক হতে পারে না। পারিবারিক ইতিহাস, বংশগত বৈশিষ্ট্য, বয়স এবং শারীরিক পরিশ্রমের ধরন অনুযায়ী খাবারের প্রয়োজন বদলায়।
২১ দিনে কমুক চিনির অভ্যাস
চা বা কফিতে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তেও ধাপে ধাপে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রথমে সাত দিন চিনি ছাড়া চা-কফি খেয়ে দেখুন। তার পর সময়সীমা বাড়িয়ে ১৪ দিন, শেষে ২১ দিন। সুগার-ফ্রি খাবার খেলেই যে বাকি খাদ্যতালিকা নিয়ে ভাবতে হবে না, এমন ধারণাও ঠিক নয়। গোটা ফলের প্রাকৃতিক চিনির সঙ্গে আঁশ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। তাই মিষ্টি পানীয়ের বদলে গোটা ফল খাওয়া ভালো।

শিশুদের অভ্যাসেও বদল জরুরি
ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর নয়, ছোট থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিশুদের পুরস্কার হিসেবে বারবার বিস্কুট বা মিষ্টি দেওয়ার বদলে ফলের মতো পুষ্টিকর খাবার ওদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলুন। একদিনে জীবনযাত্রা বদলানোর প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট পরিবর্তনই অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
সুতরাং, ডায়াবেটিসের ভয়ে ভাত-রুটি বন্ধ নয়। বরং পাতে কী থাকছে, কতটা থাকছে এবং খাওয়ার পর শরীর কতটা সচল থাকছে, সেই হিসাবটাই সবচেয়ে জরুরি।
শেয়ার
লিংক



