‘কংগ্রেসের জন্যই দুর্দশা আইডিবিআইয়ের’, ব্যাঙ্ক বিক্রি নিয়ে রাহুলকে পালটা নির্মলার

কানাডার সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্সের কাছে আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বিক্রির কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তার জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। সমাজমাধ্যমে নির্মলা বলছেন, আইডিবিআই ব্যাঙ্ক যখন এনডিএ সরকারের হাতে আসে, তখন ব্যাঙ্কের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। ধুঁকছিল ব্যাঙ্ক।
এই পরিস্থিতির জন্য কংগ্রেসকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নির্মলার দাবি, নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলেই আইডিবিআই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নির্মলার অভিযোগ, কংগ্রেস ব্যাঙ্ককে নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করত। যখন ইচ্ছা-যাকে ইচ্ছা ঋণ দিয়ে দিত। এমনকী কর্মীদেরও চাপ দেওয়া হত।” অর্থমন্ত্রী সাফ বলে দেন, কংগ্রেস জমানায় আইডিবিআইকে একপ্রকার বাধ্য করা হয় বিভিন্ন ডুবে যাওয়া সংস্থায় বিনিয়োগ করাতে।
রাহুল বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে লেখেন, দেশে শিল্পের বিকাশে সহযোগিতা করার লক্ষ্যেই কংগ্রেস আইডিবিআই ব্যাঙ্ক তৈরি করেছিল। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় এসে একের পর এক ব্যাঙ্ক বিক্রির পথ বেছে নিয়েছে। রাহুলের আরও প্রশ্ন ছিল, যে ব্যাঙ্ক লাভের মুখ দেখছে, তা বিক্রি করার প্রয়োজনটা কী? এরই পালটা নির্মলার দাবি, কংগ্রেস রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ পাইয়ে দিয়েছিল। সেজন্যই দুর্দশার মুখে পড়ে আইডিবিআই।
গত বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আইডিবিআই ব্যাঙ্কের পুনর্গঠন ও বিলগ্নীকরণ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ ইক্যুয়িটি বিক্রি হয়ে যাবে। কানাডার বিনিয়োগকারী সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফাইন্যান্সিয়াল হোল্ডিংস লিমিটেডের হাতে ব্যাঙ্কটির মালিকানা যেতে চলেছে। কানাডার সংস্থাটি ব্যাঙ্কের ৬০ শতাংশের মালিকানার জন্য ৫২ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা দেবে। এটিকেই দেশের আর্থিক ক্ষেত্রের বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগ বলেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রতিবাদে ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ আইডিবিআই অফিসার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ’ আন্দোলনে নেমেছে। বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানিয়ে আগামী ২ এবং ৩ নভেম্বর দেশব্যাপী ধর্মঘট ও অনশনের ডাক দিয়েছে ইউএফআইওই। রাহুল গান্ধী ওই কর্মী সংগঠনের পাশেও দাঁড়িয়েছেন।
শেয়ার
লিংক



