0%

বাবাকে হারিয়ে কুস্তি ছাড়ার সিদ্ধান্ত, সেই মনীষাই আজ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, আবেগে ভাসল দেশ

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সাফল্য ছোঁয়ার আগেই বারবার পথ আটকেছে একাধিক ঘটনা। বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিস্থিতি। এমনকি বাবার আকস্মিক মৃত্যুও সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। মাথার ছাদ হারিয়ে ভেঙে পড়েও ফের ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেই মনীষা ভানওয়ালা (Manisha Bhanwala) বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপের 59 কেজির বিভাগে সোনা জিতে ভারতের প্রথম মহিলা কুস্তিগীর হয়ে উঠেছেন (Success Story)। পূরণ করেছেন বাবার দেখা স্বপ্ন। সমাজকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, হাজারো বাধা সত্ত্বেও ইচ্ছা শক্তিই মানুষকে সাফল্যের দরজায় দাঁড় করাতে পারে।

বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়েও বিশ্বজয় করল মেয়ে

হরিয়ানার জিন্দ জেলার সিওয়াহা গ্রামের বাসিন্দা মনীষা। ছোট থেকে সেখানেই বেড়ে ওঠা তাঁর। কুস্তির জগতে আসার পেছনে বাবা  সুরেশ ভানওয়ালার অবদান সবচেয়ে বেশি। প্রায় 13 বছর আগে বাবার কথাতেই কুস্তি শুরু করেছিলেন মনীষা। এরপর তাঁর দেখানো পথে হেঁটেই অনুশীলন শুরু করেন তিনি। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়েকে একজন বড় কুস্তিগীর হিসেবে দেখবেন, তবে 2022 সাল সবটা যেন ওলট-পালট করে দিল। এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় মনীষার বাবার।

জানা গিয়েছে, 2022 এ সুরেশ বাবুর প্রয়াণের সময় সিনিয়র এশিয়ান কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে মঙ্গোলিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মনীষা। তবে হঠাৎ করে বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোক গমন করতেই মাথায় কার্যত আকাশ ভেঙে পড়ে মেয়ের। পিতৃশোকে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। একটা সময় সিদ্ধান্ত নেন কুস্তিটাও ছেড়ে দেওয়ার। তবে সেই সময় মনীষার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন দাদা রিঙ্কু সহ গোটা পরিবার। তাঁরাই মনীষাকে বোঝান।

জানা যায়, বাবার কঠোর পরিশ্রম এবং দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে বাস্তব করতেই কুস্তির ময়দানে ফিরে আসেন মনীষা। বুকে কষ্ট চেপে রেখেই অংশ নেন এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে। আর অংশ নিয়েই প্রথম সিনিয়র আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জের পদক জেতেন তিনি। এরপর থেকে একের পর এক প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করে শেষমেষ গতকাল অর্থাৎ 30 অক্টোবর, কাজাখস্তানের আস্তানায় সিনিয়র বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়লেন মনীষা।  মহিলাদের 59 কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগের ফাইনালে আমেরিকার অ্যাবিগেল নেটেকে 8-6 ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন তিনি।

বল হাতে শুরু অনুশীলন, টিম ইন্ডিয়ায় জায়গা পেতে অলরাউন্ডার হয়ে উঠতে মরিয়া বৈভব!

প্রসঙ্গত, সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় মনীষা সোনা জেতার পর। পদক জয়ের আনন্দে একটি সাদা টিশার্ট তুলে ধরেন মনীষা। যেখানে ছিল তাঁর বাবা এবং মায়ের ছবি। আর এই উদযাপনের মধ্যে দিয়ে মনীষা যেন নিজের বাবাকে সঙ্গে নিয়েই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেন। যে বাবা একটা সময় মেয়েকে কুত্তিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ করে বিরাট নজির রাখলেন মনীষা। বাবাহারা মেয়ের এমন সাফল্যে একপ্রকার আবেগে ভেসেছে গোটা দেশ!

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker